মমতার পুরনো রক্ষী ফেরানোর আর্জি খারিজ শুভেন্দুর! বিধানসভায় শাসক-বিরোধী টানাপড়েন

মমতার পুরনো রক্ষী ফেরানোর আর্জি খারিজ শুভেন্দুর! বিধানসভায় শাসক-বিরোধী টানাপড়েন

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের পুরনো নিরাপত্তারক্ষীদের ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি খারিজ করে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-সহ ছয় জন মমতাপন্থী বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই অনুরোধ জানান। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জ়েড প্লাস নিরাপত্তায় কোনও কাটছাঁট করা হয়নি, কিন্তু সরকারি ব্যবস্থায় নিজের পছন্দের নিরাপত্তারক্ষী দাবি করা যায় না।

নিরাপত্তা বিতর্ক ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ২০ বছর ধরে মমতার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাঁচ জন পুরনো রক্ষীকে সরিয়ে কলকাতা পুলিশের তিন জন নতুন কর্মীকে নিয়োগ করা হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই এই বদল করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। বিশেষত, নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা এবং হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মমতার সাম্প্রতিক প্রতিবাদের পরই এই রদবদল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। তবে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এই বিষয়ে প্রশাসন তাদের বর্তমান সিদ্ধান্তেই অনড় থাকছে।

হকার উচ্ছেদ ও অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যু

নিরাপত্তা ছাড়াও এ দিনের বৈঠকে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় উঠে আসে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশি হেনস্থা ও গ্রেফতারির অভিযোগ তুলে সরব হন প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা। একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার আর্জি জানানো হয়। পাশাপাশি, উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া বুলডোজ়ার দিয়ে হকার উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত রাখার দাবিও তুলেছেন বিরোধী বিধায়কেরা। এর বাইরে বিধানসভায় বিরোধীদের বসার জায়গা এবং বক্তব্য রাখার সুযোগ সংক্রান্ত পরিষদীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বর্তমান প্রশাসন কড়া হাতে নিয়মতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধী আসনে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস নিরাপত্তা, কর্মী-হয়রানি ও হকার উচ্ছেদের মতো বিষয়গুলিকে হাতিয়ার করে লাগাতার চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে। পুরনো রক্ষী ফেরানোর আর্জি খারিজ হওয়া এবং অন্যান্য ইস্যুগুলিতে সরকারের আপসহীন মনোভাবের ফলে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *