ভেস্তে যেতে পারে আমেরিকা ও ইরান শান্তিচুক্তি, আরও তলানিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সম্পর্ক

নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে আমেরিকা ও ইরানের বহু প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির বাতাবরণ ফেরাতে ১৪টি শর্তের ওপর ভিত্তি করে এই সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মূল শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইরান, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অংশে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। পাশাপাশি ইজরায়েল ও আমেরিকাকে গ্যারান্টি দিতে হবে যে ওই অঞ্চলে নতুন করে কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হবে না।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্ব রাজনীতিতে সাময়িক স্বস্তির হাওয়া বইলেও, লেবানন সংকটকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ জমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যে কড়া বার্তা দিয়েছেন, তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
তিক্ততার শীর্ষে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সম্পর্ক
শান্তিচুক্তিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে লেবানন ইস্যুতে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট নির্দেশ, ইজরায়েলি সেনা যেন অবিলম্বে দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটে ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ বন্ধ করে। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলে আক্ষেপ করে জানিয়েছেন যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই সর্বত্র বোমা ফেলতে চান। ট্রাম্পের মতে, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকলে ইজরায়েল দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকতে পারবে না, তাই আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোই একমাত্র পথ। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাবের পরেও লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নজিরবিহীনভাবে তলানিতে নিয়ে ঠেকেছে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রভাব
লেবানন-কাঁটা দূর করতে না পারলে এই ঐতিহাসিক চুক্তি শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনা, যা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাহারের ওপর। ইজরায়েল যদি লেবাননে তাদের বোমাবর্ষণ বন্ধ না করে, তবে ইরান এই চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে, যার ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে ফাটল ধরলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।