তরুণীর চাকরি যেতেই সুরবদল বাইক রাইডারের, নেটপাড়ায় তীব্র শোরগোল!

অ্যাপ-বাইক বুকিং বাতিল এবং চালককে গালিগালাজ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এই বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যেই চাকরি হারিয়েছেন অভিযুক্ত তরুণী। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে। এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নতুন ভিডিও পোস্ট করে আচমকাই সুর বদল করলেন সংশ্লিষ্ট বাইক রাইডার। তাঁর দাবি, তরুণী আগেই বুকিং বাতিল করেছিলেন, যা তিনি খেয়াল করতে পারেননি।
বিতর্কের সূত্রপাত ও চরম পরিণতি
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি বচসার ভিডিও থেকে। সেখানে দেখা যায়, অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকায় এক তরুণী দুটি ভিন্ন অ্যাপে বাইক বুক করেন। দুটি বাইকই কাছাকাছি সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছালে তরুণী একটি বুকিং বাতিল করেন। দেড় কিলোমিটার দূর থেকে তেল পুড়িয়ে আসার পর বুকিং বাতিলের প্রতিবাদ করায় চালকের ওপর চড়াও হন ওই তরুণী। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। ঘটনাটি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় এবং স্থানীয়দের চাপে তরুণী ক্ষমা চাইতেও বাধ্য হন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন সামাজিক চাপের মুখে ওই তরুণীর কর্মস্থল, একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থা, তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।
চালকের নতুন বয়ান ও সামাজিক প্রভাব
তরুণীর চাকরি চলে যাওয়ার পরই নতুন ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির হন ওই রাইডার। তিনি জানান, ভুল আসলে উভয়েরই ছিল। তরুণী লোকেশনে পৌঁছানোর ১০ মিনিট আগেই ‘ইন ড্রাইভ’ অ্যাপে বুকিং বাতিল করেছিলেন, কিন্তু রাইডার তা খেয়াল করতে পারেননি। তাঁদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি এখন মিটে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রাইডারের এই আকস্মিক সুরবদলের কারণে ঘটনার পেছনে নতুন কারণ ও গভীর প্রভাব উঁকি দিচ্ছে। প্রাথমিক কারণ হিসেবে অ্যাপের নোটিফিকেশন খেয়াল না করা এবং তাৎক্ষণিক ক্ষোভকে দায়ী করা হলেও, এর সামাজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সম্পূর্ণ তথ্য যাচাই না করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা গণ-আদালত গড়ে ওঠে, তার ফলে একজন মানুষের ক্যারিয়ার নিমেষেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে—এই ঘটনা তারই বড় প্রমাণ। অন্যদিকে, রাইডারের এই ডিগবাজির পর ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের একাংশ একে স্রেফ ‘ভাইরাল হওয়ার সস্তা কায়দা’ বলে মনে করছেন, যা ভবিষ্যতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।