৬৭৫ কোটির তহবিলে নজর! মমতার তৃণমূলের লেনদেন রুখতে পুলিশের দ্বারস্থ বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবির

৬৭৫ কোটির তহবিলে নজর! মমতার তৃণমূলের লেনদেন রুখতে পুলিশের দ্বারস্থ বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবির

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এ বার চরম আকার ধারণ করল। দলের রাশ কার হাতে থাকবে, সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি এ বার ৬৭৫ কোটি টাকার দলীয় তহবিলের দখল নিয়েও শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে এ বার সরাসরি বিধাননগর পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা।

কোষাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী তৃণমূলের দলীয় তহবিলে প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকা জমা রয়েছে। গত ৫ জুন সাংগঠনিক রদবদলে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পরই গত ১২ জুন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলের অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত লেনদেন বন্ধের আর্জি জানান অরূপ বিশ্বাস। চিঠিতে তিনি নিজেকে কোষাধ্যক্ষ দাবি করে জানান যে, দলের বিপুল সংখ্যক সাংসদ ও বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করায় তহবিলের অপব্যবহার হতে পারে। তাঁর সই করা বেশ কিছু চেক যাতে অনুমোদনহীন কেউ ব্যবহার করতে না পারে, সেই কারণেই এই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন করেন তিনি।

এর পরেই আসরে নামে ঋতব্রত শিবির। বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ বা ‘ফ্রিজ’ করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন একাধিক বিদ্রোহী বিধায়ক। চিঠিতে তাঁরা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন।

ভাঙনের সম্ভাব্য প্রভাব

বিধানসভায় ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে স্পিকারের স্বীকৃতি আদায় করে ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, দিল্লিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে অন্তত ২৮ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের মূল তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা আরও বৃদ্ধি পেল। এই আর্থিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে দলের আইনি স্বীকৃতি ও সাংগঠনিক কাঠামোর উপর গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে, যা রাজ্যের সার্বিক রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন দিকে মোড় নিতে বাধ্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *