নিজের তৈরি জঙ্গির কামড়েই রক্তপাত পাকিস্তানে, রাষ্ট্রসংঘে কড়া ভর্ৎসনা ভারতের!

রাষ্ট্রসংঘের বার্ষিক সম্মেলনে কাশ্মীর ইস্যু তুলে ফের ভারতের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ল পাকিস্তান। ভারতের প্রতিনিধি অনুপমা সিং কড়া ভাষায় ইসলামাবাদকে আক্রমণ করে দেশটিকে একটি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় দেওয়াই পাকিস্তানের প্রধান কাজ এবং বর্তমানে নিজেদের সৃষ্টি করা সেই দানবের পালটা আঘাতেই তারা এখন বিপর্যস্ত।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দমন-পীড়ন
সম্মেলনে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নয়াদিল্লি। অনুপমা সিং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান অরাজকতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। সম্প্রতি রাওয়ালাকোটে খাদ্য, বিদ্যুৎ ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের ওপর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নে পুলিশসহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারতের মতে, দশকের পর দশক ধরে সামরিক শক্তিতে জমি দখল, জনবিন্যাস নিয়ে কারসাজি এবং বেআইনিভাবে শাসন টিকিয়ে রাখার কারণেই আজ এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সন্ত্রাসের বুমেরাং ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে জঙ্গিদের ব্যবহার করার বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর গর্ব করার বিষয়টি তুলে ধরে ভারত এই দ্বিচারিতার কড়া নিন্দা করেছে। একদিকে জঙ্গিদের মদত দেওয়া এবং অন্যদিকে নিজেদের সন্ত্রাসের শিকার বলে দাবি করাকে অদ্ভুত বৈপরীত্য বলে কটাক্ষ করেছে ভারত। এই মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের জেরে পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা যেমন চরম সংকটের মুখে পড়েছে, তেমনই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও দেশটি কোণঠাসা। এর পাশাপাশি, পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে। এর ফলে আগামী দিনে জলবণ্টন ইস্যুতে পাকিস্তানের ওপর ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো, যার সদুত্তর পাক প্রতিনিধির কাছে ছিল না।