ঝাড়খণ্ডে বাম বিধায়কদের ভোটে জিতলেন বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী, চরম কোন্দল INDIA জোটে

ঝাড়খণ্ডে বাম বিধায়কদের ভোটে জিতলেন বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী, চরম কোন্দল INDIA জোটে

ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেল INDIA জোট। শাসক শিবিরের বিধায়কদের ক্রস ভোটিংয়ের জেরে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝা-কে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন এনডিএ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। এই হারের জেরে বিরোধী জোটের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনে জোটের স্থায়িত্বকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

ক্রস ভোটিং এবং জোটের সমীকরণ ওলটপালট

ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএ শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা ২৪ হলেও প্রথম পছন্দের ২৮টি ভোট পেয়ে জয়ী হন পরিমল নাথওয়ানি। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝা পান মাত্র ২০টি ভোট। জোটের অন্য আসনটিতে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) প্রার্থী বৈদ্যনাথ রাম ৩০টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, শাসক জোটের শরিক দল আরজেডি এবং অতি বাম দল সিপিআইএম লিবারেশনের বিধায়কদের ভোট কংগ্রেসের ঝুলিতে না গিয়ে বিজেপির বাক্সে পড়েছে। আরজেডির চার এবং লিবারেশনের দুই বিধায়ক ক্রস ভোটিং করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিজেপির দুটি এবং কংগ্রেসের একটি ভোট বাতিল হয়েছে।

ভোটের রাজনীতির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

কংগ্রেস শিবিরের একাংশের মতে, এই ক্রস ভোটিং মূলত একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধ। কয়েক মাস আগে বিহারে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিধায়কদের অনুপস্থিতির কারণে আরজেডি প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন, যার বদলা নিতেই এবার ঝাড়খণ্ডে আরজেডি বিধায়করা হাত শিবিরের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তবে অতি বাম দল লিবারেশনের বিধায়কদের বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কংগ্রেস। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ভূমিকা নিয়েও জোটের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে, কারণ ভোটের ঠিক আগেই তিনি বিজয়ী প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

এই ফলের ফলে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব যেমন হেমন্ত সোরেন ও বাম নেতাদের কাঠগড়ায় তুলছেন, তেমনই দলের কেন্দ্রীয় হাইকম্যান্ডের সমন্বয়হীনতাকেও দায়ী করছেন। শরিক দলগুলোর সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ রাখতে না পারার খেসারত দিতে হলো কংগ্রেসকে। এই ফাটল জাতীয় স্তরে INDIA জোটের ঐক্যবদ্ধ ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *