অবিরাম বর্ষণে ভাসল দুধিয়া সেতু, ধসে বিচ্ছিন্ন উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ!

অবিরাম বর্ষণে ভাসল দুধিয়া সেতু, ধসে বিচ্ছিন্ন উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ!

উত্তরবঙ্গ জুড়ে আবহাওয়ার ভয়াবহ রূপ ক্রমশ গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ও প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ধস নেমেছে এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররোষে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটকদের চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বিপর্যস্ত সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

মিরিক এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে রাতভর ভারী বৃষ্টির ফলে বালাসন নদীতে প্রবল পাহাড়ি ঢল নামে। জলের এই তীব্র স্রোতের ধাক্কায় দুধিয়া এলাকার অস্থায়ী সংযোগ সেতুটি ভোরের আগেই সম্পূর্ণ ভেসে যায়। গত বছরের অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থায়ী সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে এই অস্থায়ী কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও, ভূমিধসের কারণে সিকিমগামী প্রধান পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কেও যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। মহানদী এলাকার কাছে রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে যাওয়া এবং অন্যত্র বিশাল গাছ ভেঙে পড়ার ফলে দার্জিলিংমুখী যানবাহনও আটকে পড়েছে।

বিপর্যয়ের কারণ ও ব্যাপক প্রভাব

হঠাৎ সৃষ্ট এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো একটানা অতিভারী বর্ষণ এবং তার জেরে উদ্ভূত অপ্রত্যাশিত পাহাড়ি ঢল। পাহাড়ের নরম মাটি অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে না পারাতেই এই ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি, জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পর্যটন শিল্পে গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং আরও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামীকালের জন্য রেড অ্যালার্ট এবং দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষ এবং পর্যটকদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *