যোগ দিবসে রেকর্ড মেট্রো, পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে ভোর থেকেই ট্রেনের ঢল

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস এবং নিট পরীক্ষার জোড়া ধাক্কায় আগামী রবিবার কলকাতায় ব্যাপক ভিড়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২১ জুন রেড রোডের মেগা সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই দিনে দেশজুড়ে আয়োজিত হচ্ছে নিট (NEET-UG) পরীক্ষা। এই দুই বড় কর্মসূচির জেরে সকাল থেকেই শহরের রাস্তায় গণপরিবহণের ওপর বিপুল চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রী এবং পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। আগামী রবিবার ভোর ৪টে থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে শহরের লাইফলাইন।
রেকর্ড সংখ্যক ট্রেন, কমছে অপেক্ষার সময়
যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে রবিবারের চেনা শিডিউল বদলে ট্রেনের সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্লু লাইন, গ্রিন লাইন এবং ইয়েলো লাইনে বিশেষ পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সাধারণত রবিবারে ব্লু লাইনে ১৫২টি ট্রেন চললেও আগামী ২১ জুন সেখানে ২১৪টি ট্রেন চালানো হবে। ভোর ৪টে থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত আপ ও ডাউন দুই লাইনেই প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর মিলবে মেট্রো। দক্ষিণেশ্বর, নোয়াপাড়া, মহানায়ক উত্তম কুমার এবং শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকে ভোর ৪টেতেই প্রথম মেট্রো রওনা দেবে।
একইভাবে গ্রিন লাইনে ট্রেনের সংখ্যা ১০৮ থেকে বাড়িয়ে ১৭৩টি করা হচ্ছে। হাওড়া ময়দান এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে ভোর ৪টে এবং ৪টে ২ মিনিটে প্রথম ট্রেন ছাড়বে। এখানেও সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট অন্তর পরিষেবা চালু থাকবে। অন্যদিকে ইয়েলো লাইনে ৭৮টির পরিবর্তে ১১২টি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোয়াপাড়া ও জয় হিন্দ বিমানবন্দরের মধ্যে ভোর ৪টে ১৮ মিনিট থেকে শুরু হবে এই বিশেষ পরিষেবা। তবে রবিবার পার্পল এবং অরেঞ্জ লাইনে স্বাভাবিক নিয়মেই কোনো ট্রেন চলবে না।
জোড়া কর্মসূচির জেরে যানজট এড়ানোর বিকল্প রাস্তা
মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই সময়োচিত সিদ্ধান্তের ফলে শহরের সড়ক পথের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে রেড রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, নিট পরীক্ষার জন্য সকাল সকাল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো জরুরি। মেট্রোর এই আগাম ও বর্ধিত পরিষেবার কারণে পরীক্ষার্থীরা যানজট এড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষও দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।