পাহাড়ে প্রকৃতির তাণ্ডব, ধসে ভাঙল দুধিয়া সেতু ও বন্ধ শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ!

উত্তরবঙ্গে বর্ষার শুরুতেই ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে পাহাড়ে। আবহাওয়া দফতরের লাল সতর্কবার্তা বা রেড অ্যালার্টকে সত্যি করে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে অতিভারী বৃষ্টি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে কার্শিয়ঙে ভয়াবহ ধস নেমেছে এবং প্রবল জলের তোড়ে ভেঙে পড়েছে দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি। ফলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিক পর্যন্ত সমস্ত ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ১০ (NH10)-এও ধস নামায় গ্যাংটকের সঙ্গে শিলিগুড়ির সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা সামগ্রিকভাবে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক চরম সংকটে ফেলেছে।
বিপর্যয়ের কারণ ও বালাসনের রুদ্ররূপ
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শিলিগুড়ি সহ পাহাড় ও সমতলে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। রাতে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় মিরিকে ৬৩ মিলিমিটার এবং কার্শিয়াংয়ে ১১৩ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়। এই অতিভারী বর্ষণের ফলে বালাসন নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। বালাসনের সেই প্রবল স্রোতের ধাক্কা সামলাতে না পেরে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে যায়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ভয়াবহ বিপর্যয়ে দুধিয়ার প্রধান সেতুর ৩ নম্বর পিলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রশাসনের তরফে এই বিকল্প হিউম পাইপের সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল। বিগত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টি এবং শুক্রবারের প্রবল জলোচ্ছ্বাস সেই অস্থায়ী কাঠামোটিকেও এবার পুরোপুরি ধ্বংস করে দিল।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও জনজীবনে স্থবিরতা
দুধিয়া সেতু ভেঙে পড়ার কারণে মিরিক, সুখিয়াপোখরি ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ এবং পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে মিরিকের বাসিন্দাদের শিলিগুড়ি আসতে হলে ঘুম হয়ে দীর্ঘ ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, মহানদীর কাছে খারসাং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৩ লেনের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির যোগাযোগও ব্যাহত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর স্রোতের বেগ না কমলে দুধিয়ার ডাইভারশন মেরামতের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। আগামী কয়েকদিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও কোচবিহারে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলার এবং চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।