আরও একা মমতা, এবার দলের সব পদ ছাড়লেন ‘দিদির প্রিয়’ জ্যোতিপ্রিয়!

সময় যত গড়াচ্ছে, রাজনৈতিক ময়দানে ততই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী এবং দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র কয়েকদিন আগেই গত শনিবার তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। সপ্তাহ ঘোরার আগেই আচমকা তাঁর এই ইস্তফা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু। রেশনে দুর্নীতির অভিযোগে কারাবাসের পরেও তাঁর ওপর নেত্রীর আস্থা এতটুকু টলেনি। এমনকি ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারেও মমতা প্রকাশ্যে তাঁর প্রশংসা করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর মন্ত্রিসভায় জ্যোতিপ্রিয়ই সবচেয়ে ভালো কাজ করেছেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর জ্যোতিপ্রিয়কে সেভাবে জনসমক্ষে দেখা না গেলেও, দলের এই দুর্দিনে তিনি পাশে থাকবেন বলেই বিশ্বাস ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের। কিন্তু সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের কারণ হিসেবে নিজের ভগ্ন স্বাস্থ্যের কথা তুলে ধরেছেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা ৩৫০ ছাড়িয়েছে এবং কিডনির মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার ফলে কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য সমীকরণ
আনুষ্ঠানিকভাবে চরম শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এর নেপথ্যে রয়েছে ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে বুঝেই সুকৌশলে নিজেকে সরিয়ে নিলেন এই প্রবীণ নেতা। দলের চরম সংকটের মুহূর্তে এমন একজন প্রথম সারির নেতার আকস্মিক পদত্যাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য শুধু একটি বড় মানসিক ধাক্কাই নয়, বরং দলের অন্দরে বাড়তে থাকা গভীর হতাশা ও কাঠামোগত ভাঙনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।