বাম বিধায়কদের ভোটে জয়ী বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী, কংগ্রেসের হারে চরম অশান্তি ইন্ডিয়া জোটে!

ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। আশঙ্কাই সত্যি করে শাসক জোটের অন্দরে ব্যাপক ক্রস ভোটিংয়ের জেরে হেরে গেলেন কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝা। অপরদিকে, প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকা সত্ত্বেও বাম ও শরিক দলের বিধায়কদের ভোট পেয়ে অনায়াসে জয় ছিনিয়ে নিলেন এনডিএ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। ৮১ সদস্যের ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় উচ্চকক্ষে যাওয়ার জন্য ২৮টি প্রথম পছন্দের ভোটের প্রয়োজন ছিল। এনডিএর নিজস্ব বিধায়ক সংখ্যা ২৪ হওয়া সত্ত্বেও দলবদলের ভোটে নির্দল প্রার্থী নাথওয়ানি ২৮টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝা পান মাত্র ২০টি ভোট। বাকি আসনে শাসক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) প্রার্থী বৈদ্যনাথ রাম ৩০টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
ভেঙে পড়ল জোটের শৃঙ্খলা
কংগ্রেস শিবিরের দাবি, শাসক জোটের শরিক রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং অতি-বাম দল সিপিআইএম লিবারেশনের বিধায়করা তাঁদের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরজেডির ৪ জন এবং লিবারেশনের ২ জন বিধায়ক ক্রস ভোটিং করেছেন। কয়েক মাস আগে বিহারের রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিধায়কদের অনুপস্থিতির কারণে আরজেডি প্রার্থী জিততে পারেননি, ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনাকে তারই ‘বদলা’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে অতি-বাম শিবিরের এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের অন্দরে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
যোগাযোগের অভাব ও ভবিষ্যতের প্রভাব
এই হারের ফলে ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয়ের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। ভোটের ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী নাথওয়ানির সাক্ষাৎ জোটের বিধায়কদের মধ্যে ভুল বার্তা দিয়েছিল বলে মনে করছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও। প্রদেশ নেতাদের স্পষ্ট অভিযোগ, হাইকম্যান্ড শরিক দলগুলোর সঙ্গে সঠিক সময়ে ফলপ্রসূ যোগাযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ফাটল আগামী দিনে জাতীয় স্তরে জোটের ঐক্যকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই জয়ের মাধ্যমে পরিমল নাথওয়ানি চারবার রাজ্যসভা সদস্য হয়ে ইতিহাস গড়লেন।