কোটি কোটি চাকুরিজীবীর মুখে হাসি, চলতি মাসেই অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ইপিএফও-র সুদের টাকা

কোটি কোটি চাকুরিজীবীর মুখে হাসি, চলতি মাসেই অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ইপিএফও-র সুদের টাকা

দেশের প্রায় ৭ কোটি চাকরিজীবীর জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর নিয়ে এলো কেন্দ্রীয় সরকার। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ট্রাস্টিজ বা সিবিটি-র প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। এর ফলে চলতি জুন মাসেই এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও সদস্যরা তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের জমানো টাকার ওপর সুদের অংশ পেয়ে যাবেন। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে ৮.২৫ শতাংশই বহাল রাখা হয়েছে, যা টানা তিন বছর একই স্তরে রইল।

টানা তিন বছর একই সুদের হার

শেষবার ২০২৪ সালে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদের হার সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময় ২০২২-২০২৩ অর্থবর্ষের ৮.১৫ শতাংশ থেকে সুদের হার বাড়িয়ে ৮.২৫ শতাংশ করা হয়। এরপর থেকে বিগত তিন বছর ধরে আর সুদ বাড়ানো হয়নি। গত ২ মে ইপিএফও-র সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সিবিটি-র বৈঠকে চলতি অর্থবর্ষেও এই সুদের হার ধরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রকের অনুমোদনের পর এখন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

বাজারের চাপ ও ইপিএফও-র লোকসান

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিবিটি-র পক্ষ থেকে চলতি বছর সুদের হার সামান্য বাড়িয়ে ৮.৩০ শতাংশ করার একটি ভাবনা চিন্তা ছিল। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় এবং আশানুরূপ সাড়া না মেলায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হয়। এই ৮.২৫ শতাংশ সুদের হার বজায় রাখার কারণে ইপিএফও-কে প্রায় ৯৪৪ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তবে এই ঘাটতি নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ গত অর্থবর্ষে সংস্থাটি পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি লভ্যাংশ অর্জন করেছে। এই সঞ্চিত অর্থ দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের লোকসান অনায়াসেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

ঐতিহাসিক পতন ও বর্তমান স্থায়িত্ব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইপিএফ-এর সুদের হারে বড়সড় ওঠানামা দেখা গিয়েছে। চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছিল ২০২২ সালের মার্চ মাসে, যখন ২০২০-২০২১ অর্থবর্ষের ৮.৫০ শতাংশ সুদ এক ধাক্কায় কমিয়ে ৮.১০ শতাংশ করা হয়েছিল। এর আগে ১৯৭৭-১৯৭৮ অর্থবর্ষে সুদের হার ছিল ৮ শতাংশ। সেই ভয়াবহ পতনের ধাক্কা কাটিয়ে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে সুদ সামান্য বাড়ানো হলেও, বিগত তিন বছর ধরে সুদের হার ৮.২৫ শতাংশে স্থির রাখায় মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীরা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে একটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *