‘সমর্থন করি না’, নেতৃত্বের চার্টার্ড বিমান বিলাসে ক্ষুব্ধ নিচু তলা
রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই চরম অভ্যন্তরীণ সংকটে ভুগছে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর দল। একদিকে যখন দলের সাধারণ কর্মী এবং মাঝারি স্তরের নেতারা প্রতিদিন নানাবিধ আইনি জটিলতা ও পুলিশি হেনস্থার মুখোমুখি হয়ে কোণঠাসা বোধ করছেন, তখনই দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিলাসবহুল চার্টার্ড বিমান সফর ঘিরে ক্ষোভের মেঘ জমছে দলের অন্দরে। সম্প্রতি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিল্লিতে গিয়েছেন এবং ফিরেছেন অভিষেকের ভাড়া করা সেই চার্টার্ড বিমানেই। শীর্ষ নেতৃত্বের এই আকাশছোঁয়া খরচকে দলের একটা বড় অংশ মোটেও ভাল চোখে দেখছেন না। এই চরম ডামাডোলের মাঝেই দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার খোলাখুলি মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
দলের টাকায় বিলাসিতা নিয়ে কুণালের বিস্ফোরক মন্তব্য
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ব্যয়বহুল সফর নিয়ে যখন দলের অন্দরে অসন্তোষ দলা পাকিয়ে উঠছে, তখন কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় একে সমর্থন না করার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চার্টার্ড বিমানে গিয়েছেন নাকি সাধারণ বিমানে গিয়েছেন, সেটা নির্দিষ্ট করে তিনি বলতে না পারলেও, যদি এই সফরের টাকা দলের তহবিল থেকে খরচ হয়ে থাকে, তবে দলীয় কর্মী হিসেবে তিনি সেটাকে কোনওভাবেই সমর্থন করছেন না। অবশ্য তিনি অন্য কারও চার্টার্ড বিমানের সফরসঙ্গী হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে দলের কিছু বলার থাকে না বলেও মন্তব্য করেন কুণাল। তৃণমূলের অন্দরের খবর, ভোটের ভরাডুবির পর নিচু তলার কর্মীরা যখন কার্যত অভিভাবকহীন, তখন শীর্ষ নেতৃত্বের এমন বিলাসিতা দেখে দলের একটা বড় অংশ কালীঘাটের বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিদ্রোহে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কোটি টাকার উড়ান বনাম ফ্রিজ হওয়া দলীয় অ্যাকাউন্ট
আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিশেষ শুনানিতে হাজিরা দিতে আবারও চার্টার্ড বিমানে চেপেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন অভিষেক। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের লং রেঞ্জ চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রতি ঘণ্টার গড় ভাড়া প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা। পাইলট ও ক্রু মেম্বারদের খরচ, ওয়েটিং ফি, এয়ারপোর্ট হ্যান্ডেলিং, কেটারিং ও সরকারি ট্যাক্স মিলিয়ে একদিনের এই দিল্লি সফরের আর্থিক ধাক্কা দাঁড়ায় প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা। গত ৭ ও ৮ জুন যথাক্রমে অভিষেক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাতায়াতেও এই বিমানই ব্যবহৃত হয়েছিল।
স্বভাবতই এখন রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় কৌতূহল— এই বিপুল পরিমাণ টাকা আদতে জোগাচ্ছে কে? যেখানে দলের ‘কোষাধ্যক্ষ’ অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন, সেখানে কোন জাদুবলে এই বিপুল খরচের উৎসব চলছে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। আর এই আর্থিক অসঙ্গতি ও নেতৃত্বের বিলাসিতাই আগামী দিনে দলের ফাটলকে আরও চওড়া করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।