বৃষ্টির পূর্বাভাসে কি পণ্ড হবে রেড রোডের যোগ দিবস, অভয় দিয়ে পূর্বতন সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। এর মধ্যেই আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে উপস্থিত হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ভোরে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের আসার কথা রয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবারেও কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতি ও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে।
যৌথ তৎপরতায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা
বৃষ্টির আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, প্রকৃতির নিয়মেই এই সময়ে বর্ষা আসে এবং কিছু সমস্যা তৈরি হয়। তবে সেই সমস্যার সমাধান করাই সরকারের কাজ। প্রধানমন্ত্রীর সফর ও যোগ দিবসের কর্মসূচি যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কলকাতায় উপস্থিত থেকে সমস্ত প্রস্তুতি তদারকি করছেন। নির্দিষ্ট দিনেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে যোগ দিবস এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক তরজা
এই উৎসবের আবহেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক। প্রস্তুতির খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের সময়েও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে উদাসীনতা দেখা যেত। উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির সময়েও কলকাতায় কার্নিভাল আয়োজন করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বর্তমান সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং জানান যে তাঁদের প্রশাসন ভোর থেকে তৎপর রয়েছে। অন্যদিকে, রেড রোডে এই আয়োজন নিয়ে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা শুরু হয়েছে।
সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই মেগা ইভেন্টের জন্য রেড রোডে ইতিমধ্যে ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। আগামী রবিবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিত হওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং এর ঠিক আধ ঘণ্টা পর প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন। বৃষ্টির চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করে প্রশাসন যদি মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তবে এই আয়োজন সফল হবে। অন্যথায়, কাদা ও জলমগ্ন পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।