পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের!

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে কড়া ও আশাব্যঞ্জক বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লিতে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের (LPG) কোনও ঘাটতি নেই। আন্তর্জাতিক স্তরে সাপ্লাই চেইন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার বা অযথা জ্বালানি মজুত করার কোনও কারণ নেই।
চাহিদার তুলনায় বাড়ানো হয়েছে সরবরাহ
রান্নার গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করতে তেল বিপণন সংস্থাগুলি চাহিদার তুলনায় বেশি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন দিনে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ বুকিংয়ের বিপরীতে ১ কোটি ৪৭ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারি ও অনিয়ম রুখতে ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড (DAC) ব্যবস্থার মাধ্যমে ৯৬ শতাংশ ডেলিভারি সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশবাসীর উপর কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
বিকল্প জ্বালানি ও পরিকাঠামোয় জোর
জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রসারেও ব্যাপক জোর দিয়েছে সরকার। গত মার্চ মাস থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ নতুন পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) সংযোগের মাধ্যমে সরবরাহ শুরু হয়েছে। এছাড়াও, প্রায় ৬২ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি (LNG) নিয়ে ‘দিশা’ নামক একটি জাহাজ গুজরাতের দাহেজ বন্দরে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে, যা শিল্প ও গৃহস্থালির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে। এই জ্বালানি কূটনীতির পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত ৩,৬৩৯ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বহির্বিশ্বের প্রভাব থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।