বৃষ্টিতে নাকাল শহর, ভোগান্তির মাঝে নাগরিকদের জন্য কী বিশেষ প্রস্তাব দিলেন অগ্নিমিত্রা?

বৃষ্টিতে নাকাল শহর, ভোগান্তির মাঝে নাগরিকদের জন্য কী বিশেষ প্রস্তাব দিলেন অগ্নিমিত্রা?

বর্ষার শুরুতেই ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ। শুক্রবার সকালের টানা বর্ষণে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোড থেকে শুরু করে সল্টলেক, বাগুইআটি পর্যন্ত একাধিক নিচু এলাকা জলের তলায় চলে যায়। জল জমার কারণে ইএম বাইপাস ও মা ফ্লাইওভারের মতো শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল মন্থর হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্যোগের জেরেই কলকাতা বিমানবন্দরে মালপত্র নামানোর সময় আচমকা বাজ পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন দুই কর্মী। তাঁদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও মন্ত্রীর বার্তা

জমা জলের দুর্ভোগ থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে ইতিমধ্যেই পাম্প চালিয়ে নিকাশির কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা, পাশাপাশি খোলা হয়েছে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম। শুক্রবার শহরের জলমগ্ন এলাকা ও আলিপুর চিড়িয়াখানার নিকাশি ব্যবস্থা স্বশরীরে পরিদর্শনে বের হন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মানুষ বিপদে পড়লে পুরসভার হেল্পলাইন বা ওয়েবসাইটের পাশাপাশি প্রয়োজনে সরাসরি তাঁকেও ফোন করে সমস্যার কথা জানাতে পারেন।

দুর্যোগের কারণ ও জোড়া সতর্কতা

বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করার কারণেই এই প্রবল বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে আগামী কয়েক দিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে ঝোড়ো হাওয়া-সহ বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। দার্জিলিং, কালিম্পং সহ উত্তরের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি মারাত্মক বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে উত্তরের জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *