তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কি এবার পড়বে তালা, অরূপের চিঠির পর পুলিশের দ্বারস্থ ১০ বিধায়ক!

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কি এবার পড়বে তালা, অরূপের চিঠির পর পুলিশের দ্বারস্থ ১০ বিধায়ক!

একদা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কর্তৃত্ব নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার কাটমানি ও তোলাবাজির অর্থ ঢুকতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে তা ফ্রিজ করার দাবিতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘ঋতপন্থী’ দশজন বিধায়ক। বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূলের’ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সংক্রান্ত সন্দেহের পরই এই বিধায়করা পুলিশের দ্বারস্থ হন। এর আগে দলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি দেওয়ায় দলের আর্থিক তহবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

নেপথ্যের কারণ ও ক্ষমতার লড়াই

এই নজিরবিহীন সংকটের সূত্রপাত ঘটে যখন অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাংকের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা চলছে, বহু সাংসদ দল ছেড়েছেন এবং বিধায়কদের একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এমতাবস্থায় দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে তা অস্পষ্ট হওয়ায়, তহবিলের অপব্যবহার রুখতে সমস্ত লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা উচিত। তবে রাজনৈতিক মহলে জটিলতা তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়। নির্বাচনের পর দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নতুন কমিটি গঠন করেছেন, সেখানে অরূপ বিশ্বাসের পরিবর্তে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। ফলে অরূপ বিশ্বাসের এই চিঠির আইনি বৈধতা নিয়ে দলের অন্দরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে আর কোষাধ্যক্ষ পদে নেই, তাই তাঁর চিঠির কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দলের সংসদীয় ও পরিষদীয় কমিটিতে ভাঙন ধরার পর এবার অরূপ বিশ্বাসের মতো শীর্ষনেতারাও নেত্রীর সিদ্ধান্তকে অমান্য করে বিদ্রোহীদের সারিতে শামিল হচ্ছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের রাশ নিজের হাতে রাখতে মরিয়া হয়ে বিদ্রোহীদের সরিয়ে নতুন করে সংগঠন সাজানোর চেষ্টা করছেন। এতদিন দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কালীঘাটের হাতে থাকলেও, এই আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সত্যি ফ্রিজ হবে কিনা এবং দলের আর্থিক লেনদেন স্থবির হয়ে পড়বে কিনা—তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *