ঘুম ভাঙেনি অথচ মোবাইল হাতছাড়া, আজব অজুহাতে ট্রেনের চেন টেনে শ্রীঘরে ৫৮ যাত্রী!

ঘুম ভাঙেনি অথচ মোবাইল হাতছাড়া, আজব অজুহাতে ট্রেনের চেন টেনে শ্রীঘরে ৫৮ যাত্রী!

রেলযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে ট্রেন থামানোর জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ অ্যালার্ম চেন। তবে অতি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বলছে, এই জরুরি পরিষেবাকে নেহাতই ছেলেখেলা বানিয়ে ফেলেছেন এক শ্রেণীর যাত্রী। কারও ঘুম ভাঙেনি, কারও মোবাইল হাত থেকে পড়ে গিয়েছে, আবার কেউ ট্রেনের হুকে ঝুলিয়েছেন ভারী ব্যাগ! এমন সব অদ্ভুত ও তুচ্ছ কারণে ট্রেনের চেন টেনে পূর্ব রেলের পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগে মে মাসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৮ জনকে। পূর্ব রেলের আসানসোল ও হাওড়া ডিভিশনে এই ধরনের ঘটনার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে।

হুলুস্থুল কাণ্ড আসানসোল ও হাওড়ায়

পূর্ব রেল সূত্রের খবর, মে মাসে যাত্রীদের এই খামখেয়ালিপনার জেরে মোট ৮৬টি ট্রেনকে মাঝপথে আটকে থাকতে হয়েছে। আরপিএফের তদন্তে উঠে এসেছে অত্যন্ত চমকপ্রদ সব তথ্য। আসানসোল ও মালদহ ডিভিশনে ৮ জন যাত্রী ট্রেনের নির্ধারিত স্টপেজের তোয়াক্কা না করে, ট্রেনটি তাঁদের নিজেদের গ্রাম বা বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় চেন টেনে দেন। অন্যদিকে, আসানসোল ও হাওড়ায় বেশ কয়েকজন যাত্রী দেরিতে ঘুম থেকে উঠে দেখেন যে গন্তব্য স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে, আর তখনই ট্রেন থামাতে তড়িঘড়ি চেন টেনে বসেন। শুধু তাই নয়, ভুল ট্রেনে উঠে পড়া, পরিজনকে বিদায় জানাতে এসে নামতে না পারা কিংবা অসাবধানতাবশত চেনে হাত লেগে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আসানসোলে আবার দুটি ক্ষেত্রে যাত্রীরা ট্রেনের চেনের হুঁকেই তাঁদের ভারী লাগেজ ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে যায় ট্রেন।

পরিষেবায় বিঘ্ন ও আইনি পদক্ষেপ

যাত্রীদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ সাধারণ মানুষকে। এই অবাঞ্ছিত চেইন টানার ঘটনায় ট্রেনগুলি দীর্ঘ সময় মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়ে। রেলের হিসাব অনুযায়ী, এই কারণে আসানসোলে গড়ে ১৩ মিনিট, হাওড়ায় ১৪ মিনিট এবং মালদহ ও শিয়ালদহ ডিভিশনের কিছু সেকশনে প্রতি ঘটনায় সর্বোচ্চ ১৭ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন আটকে থাকে। একটি ট্রেনের এই বিলম্বের চেইন রিঅ্যাকশন পড়ে পেছনের অন্যান্য ট্রেনের ওপরও, যার ফলে পুরো রেল সূচি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

রেল আইনের বিধান অনুযায়ী, উপযুক্ত কারণ ছাড়া ট্রেনের চেন টানা একটি শাস্তিযোগ্য গুরুতর অপরাধ। এতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অকারণে ট্রেনের চেন টানা আইনত অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে রেল প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জারি রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *