প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সিবিআইয়ের নজরে বিনীত গোয়েল, আর জি কর কাণ্ডে ঘনাচ্ছে রহস্য!

আর জি কর মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। প্রমাণ লোপাট এবং মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে। সিবিআই সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই তাঁকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির মুখোমুখি হতে হবে।
তদন্তের জালে প্রাক্তন পুলিশকর্তারা
বিনীত গোয়েলকে তলবের পাশাপাশি ঘটনার সময়ে দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল ডিভিশনের তৎকালীন ডিসি ইন্দিরা মুখার্জি এবং নর্থ ডিভিশনের ডিসি অভিষেক গুপ্তকেও শুক্রবার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার রাতের প্রকৃত বিবরণ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করতে বর্তমানে সেই নথিগুলি বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আর জি করের সেমিনার রুমে তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রথম ধাপে গ্রেফতার হওয়া সঞ্জয় রায়কে নিম্ন আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে প্রথম থেকেই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের পরিবারের দাবি ছিল, এই নৃশংস অপরাধের নেপথ্যে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের উদ্যোগে আসাম্পূর্ণ এই তদন্তের ফাইল ফের পুনর্মূল্যায়নের জন্য খোলা হয়েছে। এর জেরেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ অপর দুই ডিসিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এই তৎপরতার জেরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার রাতে প্রমাণ নষ্ট বা তদন্তের মোড় ঘোরানোর নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশ ছিল কি না, তা এখন সিবিআইয়ের আতশকাচের তলায়। পাশাপাশি, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মৃতদেহ উদ্ধারের পর তড়িঘড়ি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার রহস্য উদ্ঘাটনে নেমেছে। এই সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআইয়ের বিশেষ দল।