ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের শীর্ষে মোদী ও জিনপিং, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের শীর্ষে মোদী ও জিনপিং, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের কোন নেতাকে তিনি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেন বা প্রশংসা করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীনভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নাম উল্লেখ করেন। বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানকে নিজের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখায় ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গি বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণকে আরও একবার সামনে এনেছে।

ব্যক্তিগত মুগ্ধতা বনাম ভূরাজনীতি

সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদীকে একজন অত্যন্ত দক্ষ নেতা হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, মোদী বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পেছনে মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, নিজের দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে এমন শক্তিশালী জনপ্রিয়তা ধরে রাখা মোদীর অসাধারণ রাজনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেয়।

একই সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বগুণেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং জটিল একটি দেশকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল রাখা সহজ কাজ নয়। জিনপিংয়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং চিনের ওপর তাঁর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ট্রাম্পকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।

পছন্দের কারণ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার মূল কারণ চিনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক। বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তিগত আধিপত্য, সামরিক প্রতিযোগিতা এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা রয়েছে। এই বৈরিতার মধ্যেও শি জিনপিংয়ের প্রশংসা অনেককে বিস্মিত করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগত নেতৃত্বের দক্ষতাকে ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে আলাদা করে দেখার চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা নতুন কিছু নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ‘হাউডি মোদী’ এবং ‘নমস্তে ট্রাম্প’-এর মতো বৃহৎ ও ঐতিহাসিক জনসমাবেশ দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করেছিল। হোয়াইট হাউসে ফেরার পরও মোদীর প্রতি ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক প্রশংসা প্রমাণ করে যে, আমেরিকার কাছে ভারত কৌশলগতভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের প্রকাশ নয়, বরং বর্তমান বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য সম্পর্কেও একটি বড় বার্তা। তাঁর এই বক্তব্য পরিষ্কার করে দেয় যে, আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে ভারত ও চিনই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং এই দুই দেশের নেতাদের সিদ্ধান্তই সমকালীন বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *