ইতিহাসের আসল সত্য সামনে আসুক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে ডাক উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ও প্রকৃত ইতিহাস সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে আসতে বড়সড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। আগামী ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা দেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর এদিনই প্রথম এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ শতবার্ষিকী হলের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন ধরে আসল ইতিহাসকে চেপে রেখে মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তবে এবার আর সত্য গোপন করে রাখা যাবে না, কারণ মানুষ এখন প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গ গঠনে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দাবি করেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা ও সময়োচিত পদক্ষেপ না থাকলে আজ হয়তো পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হত। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সুর শোনা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের গলাতেও। তিনি স্বীকার করেন, কলকাতার ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যাওয়ার পেছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম প্রাক্তন উপাচার্যের এক বিশাল ও ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। মুক্ত চিন্তার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে ডান-বাম সব পক্ষের মধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে সুস্থ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
চলতি বছর ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে স্কুল-কলেজে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের যে নির্দেশিকা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, এই আয়োজন তারই অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বাংলার শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে ইতিহাস চর্চার একটি নতুন ধারা তৈরি হতে পারে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে তুলে ধরার এই উদ্যোগ যেমন নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের অজানা অধ্যায় উন্মোচন করবে, তেমনই বাম ও ডানপন্থী শিবিরের মধ্যে ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দেবে।