বাঘ একাই শিকার করে! চরম বিদ্রোহের মুখে উদ্ধবকে তীব্র আক্রমণ শিণ্ডের

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শিব সেনার অন্দরের কোন্দল এবার নতুন মাত্রা পেল। দলের অন্দরে যখন ফের বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে এবং উদ্ধব ঠাকরে দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভাবছেন, ঠিক তখনই তাঁর শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে। নাম না করে উদ্ধব শিবিরকে বিঁধে তাঁর হুংকার, কুকুররা দল বেঁধে ঘেউঘেউ করে, কিন্তু বাঘ একাই শিকার করে।
আসল ছবি এখনও বাকি
শিণ্ডের দাবি, দলের এই সাম্প্রতিক ডামাডোল নিছকই একটি ‘ট্রেলার’ মাত্র, আসল ছবি এখনও সামনে আসা বাকি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিব সেনা গুটিকয়েক নেতার সম্পত্তি নয়, এটি দলের প্রতিটি কর্মী ও সাধারণ মানুষের অধিকার। নিজের রাজনৈতিক উত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর কোনও ‘গডফাদার’ ছিল না। বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শ ও আশীর্বাদই তাঁকে সাধারণ ‘শাখা প্রমুখ’ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসিয়েছে। শিণ্ডের দাবি, বালাসাহেবের স্বপ্ন পূরণ করে তিনি গোটা মহারাষ্ট্রে দলের বিস্তার ঘটিয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে শিব সেনা আজ অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বিদ্রোহের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
শিব সেনার (ইউবিটি) এই লাগাতার ভাঙনের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে দলের আদর্শগত বিচ্যুতি। সম্প্রতি উদ্ধব শিবিরের ৬ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানিয়েছেন যে, দল নিজের মূল মতাদর্শ ত্যাগ করে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই তাঁরা শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পালটা শোকজ নোটিসের পথে হাঁটলেও ড্যামেজ কন্ট্রোল করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রবল চাপের মুখে পড়ে খোদ উদ্ধব ঠাকরে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছেন। এই ধারাবাহিক বিদ্রোহ এবং শিণ্ডের আগ্রাসী রাজনৈতিক কৌশল মহারাষ্ট্রে উদ্ধব শিবিরের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে এক চূড়ান্ত সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।