মহারাষ্ট্রে বড় ভাঙনের হুঁশিয়ারি দিয়ে উদ্ধবকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শিন্ডে

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা এবার আরও তীব্র রূপ নিল। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (UBT) শিবিরের ৬ লোকসভা সাংসদের সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢাললেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সরাসরি উদ্ধব ঠাকরেকে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৬ সাংসদের এই বিদ্রোহ তো স্রেফ ‘ট্রেলার’, আসল ‘সিনেমা’ এখনও বাকি রয়েছে।
মুম্বইয়ের গোরগাঁওয়ের নেস্কো সেন্টারে আয়োজিত শিবসেনার ৬০তম প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেন শিন্ডে। রাজনৈতিক মহলে উদ্ধব শিবিরের সাংসদদের নিজেদের দলে টানতে একনাথ শিন্ডে শিবিরের এই সুচতুর রণকৌশলকে ‘অপারেশন টাইগার’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শিন্ডে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, এটা তো কেবল ট্রেলার ছিল, সিনেমা এখনও বাকি। এবার দেখুন এরপর কী হয়। ওমপ্রকাশ রাজে নিম্বালকর, সঞ্জয় দিনা পাতিলসহ যে ৬ জন সাংসদকে নিয়ে এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি উত্তাল, তাঁরা উদ্ধব ঠাকরের ডাকা বৈঠক এড়ালেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শিন্ডে শিবিরে যোগ দেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, খুব শীঘ্রই তাঁরা শিন্ডে শিবিরে শামিল হতে চলেছেন।
উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের লড়াই
নাম না করে উদ্ধব ঠাকরেকে আত্মসমীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে শিন্ডে বলেন, কেন নিজের লোক ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সেটা আগে ঘরে বসে ভাবা উচিত। উদ্ধবকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি জানান, গায়ে বাঘের ছাল চাপালেই কেউ বাঘ হয়ে যায় না। শিন্ডে সাফ জানান, শুধুমাত্র রক্ত সম্পর্কের দোহাই দিয়ে কেউ শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা बाळाসাহেব ঠাকরের আসল উত্তরাধিকারী হতে পারেন না। শিবসেনা কোনও স্থাবর সম্পত্তি বা জমির টুকরো নয়। যাঁরা আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে গেরুয়া পতাকাকে ভুলে গেছেন, তাঁদের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে। উদ্ধব ঠাকরের বাড়ি থেকে রাজনীতি করার ধরনকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, একজন সেনাপতি কখনও ঘরে বসে থাকেন না, তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে সামনে থেকে লড়াই করতে হয়।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
এই দলবদলের জল্পনা ও শিন্ডের আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণে মহারাষ্ট্রের মহাজোটে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে। বক্তব্যের মাঝেই শিন্ডে আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট ‘মহায়ুতি’ বিধান পরিষদের সবকটি আসনেই জয়লাভ করতে চলেছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেছে বিজেপি, শিবসেনা ও এনসিপি জোট। এই সমাবেশ থেকে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেন শিন্ডে। তিনি দাবি করেন, শিবসেনা (UBT), আরজেডি কিংবা ডিএমকে-র মতো দলগুলি যখনই কংগ্রেসের হাত ধরেছে, তখনই তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হয়েছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে উদ্ধব শিবিরের ভবিষ্যৎ যেমন বড়সড় সংকটের মুখে, তেমনই রাজ্যে শিন্ডে ও বিজেপির অবস্থান আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।