ইউসুফ পাঠানের জমি জবরদখল মামলায় কড়া পদক্ষেপ পুরসভার

ইউসুফ পাঠানের জমি জবরদখল মামলায় কড়া পদক্ষেপ পুরসভার

জমি জবরদখল মামলায় আরও বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদ এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। সম্প্রতি দলবদল করে এনসিপিআই-তে (NCPI) নাম লেখানো এই সাংসদের দখলে থাকা ভাদোদরার একটি বিতর্কিত জমির বাজারমূল্য বা ভ্যালুয়েশন নির্ধারণ করেছে ভাদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (ভিএমসি)। শুক্রবার পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি ৯৭৮ বর্গমিটার আয়তনের ওই জমির মূল্য প্রতি বর্গমিটার ২.১০ লক্ষ টাকা হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যা ইউসুফের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

ভাদোদরার তান্ডালজা এলাকায় অবস্থিত এই মূল্যবান জমিটির মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভাদোদরা পুরসভার সেক্রেটারি চিন্তন দেশাই জানিয়েছেন, কোনো সরকারি জমি নিলামে তোলার আগে তার বাজারমূল্য নির্ধারণের নিয়ম রয়েছে। তবে মূল্যায়ন হওয়া মানেই যে জমিটি এখনই নিলাম করা হবে তা নয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন ও পুরসভার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ভিএমসির সাধারণ সভায় অনুমোদনের পর চূড়ান্ত রূপ পাবে। একবার এই মূল্যায়ন চূড়ান্ত হলে তা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে।

জমি বিতর্কের সূত্রপাত ও আইনি জটিলতা

ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে, যখন ভিএমসি-র একটি প্রাথমিক প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে ইউসুফ পাঠান তান্ডালজার ওই জমিটি নিজের দখলে নেন। পরবর্তীতে জমি হস্তান্তরের এই প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে গুজরাট সরকার তা সরাসরি খারিজ করে দেয়। কিন্তু সরকারি অনুমোদন না মেলা সত্ত্বেও বিগত ১৪ বছর ধরে ইউসুফ পাঠান জমিটি নিজের দখলেই রেখে দেন এবং ব্যবহার করতে থাকেন। তৎকালীন বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় পওয়ার এই জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রথম সরব হন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

২০২৪ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরপরই পুরসভা তাঁকে জমি খালি করার নোটিশ পাঠায়। এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে ইউসুফ পাঠান গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও স্বস্তি মেলেনি। হাইকোর্টের একক বেঞ্চ রাজ্য সরকারের জমি ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। এরপর তিনি ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করলে সেখানেও তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েন। ডিভিশন বেঞ্চ মৌখিকভাবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখলে রাখার অপরাধে এই প্রাক্তন ক্রিকেটারকে বড় অঙ্কের আর্থিক খেসারতও দিতে হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ এবং এনসিপিআই-তে যোগদানের আবহে ইউসুফ পাঠানের এই জমি জবরদখল বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে যেমন পুরসভা ও আদালতের সাঁড়াশি চাপে তাঁর জমি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দলবদল ও জমি বিতর্ক নিয়ে ইউসুফকে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনি জটিলতার পাশাপাশি এই ঘটনাটি সাংসদ হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেও বড়সড় সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *