জামাইষষ্ঠীর বাজারে সুখবর, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ডিজেলের জট কাটিয়ে ইলিশের খোঁজে সমুদ্রে ট্রলার

জামাইষষ্ঠীর মুখে ভোজনরসিক বাঙালিদের জন্য বড় সুখবর। জ্বালানি তেলের জট কাটিয়ে অবশেষে গভীর সমুদ্রে ইলিশের খোঁজে রওনা দিতে শুরু করেছে মৎস্যজীবীদের ট্রলার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে দেশজুড়ে তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পাম্পগুলোতে ডিজেল বিক্রির ওপর যে ঊর্ধ্বসীমা জারি করা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে জামাইষষ্ঠীর বাজারে ইলিশের জোগান স্বাভাবিক থাকার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংকটের কারণ ও মৎস্যজীবীদের উদ্বেগ
যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের আমদানি কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতেও। একাধিক পাম্পে জ্বালানি বিক্রির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। সাধারণ যানবাহনের জন্য সামান্য পরিমাণ তেল মিললেও, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য তা ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল। একেকটি ট্রলারের সমুদ্রে যাওয়ার জন্য অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও, পাম্পগুলো থেকে ২ হাজার লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছিল না। ১৪ জুন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা (ব্যান পিরিয়ড) শেষ হওয়ার পর ইলিশের মরশুম শুরু হলেও, তেলের এই তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েন মৎস্যজীবীরা। জেলা জুড়ে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি ট্রলার ও যন্ত্রচালিত নৌকো আটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম-সহ বিভিন্ন সংগঠন মৎস্যজীবীদের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়ে চিঠি পাঠায়। আবেদনের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর (ফুড অ্যান্ড সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট) বিভিন্ন তেল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে। এরপরই ট্রলারগুলোর জন্য ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে সমস্ত ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়া হয়। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পর দিঘা, শঙ্করপুরসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে ট্রলারগুলো আবার সমুদ্রে পাড়ি দিতে শুরু করেছে। মৎস্যজীবী সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় জামাইষষ্ঠীর মৎস্যপ্রেমীদের পাতে পর্যাপ্ত ইলিশ পৌঁছানোর পথ যেমন প্রশস্ত হলো, তেমনই মরশুমের শুরুতে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেলেন হাজার হাজার মৎস্যজীবী।