শিলিগুড়িতে মেয়রের পদ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ! রঞ্জনের পথে কাঁটা দলেরই কাউন্সিলররা

শিলিগুড়িতে মেয়রের পদ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ! রঞ্জনের পথে কাঁটা দলেরই কাউন্সিলররা

শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র পদ থেকে গৌতম দেবের পদত্যাগের পরেই চরম রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হয়েছে। মেয়রের শূন্যস্থান পূরণে দলেরই একটি অংশ যখন তড়িঘড়ি ক্ষমতা দখলে মরিয়া, ঠিক তখনই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলেরই একাধিক বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলর। একদিকে নতুন করে পদ দখলের চেষ্টা, অন্যদিকে একের পর এক কাউন্সিলরের ইস্তফা—সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির রাজনীতিতে এখন চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টা ও পাল্টা ইস্তফা

শুক্রবার গৌতম দেব আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেওয়ার পরপরই বিকেলে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একটি অংশের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারকে দলনেতা এবং মেয়র পারিষদ সঞ্জয় পাঠককে উপ-দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। দলীয় সূত্রে খবর, ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে রঞ্জন সরকার মেয়র এবং সঞ্জয় পাঠক ডেপুটি মেয়র পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চাইছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই সেবিকা মিত্তল ও দিলীপ বর্মনের মতো তৃণমূল কাউন্সিলররা পদত্যাগ করেছেন। শনিবার আরও দুই মেয়র পারিষদ মানিক দে ও কমল আগরওয়ালার পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই চরম ডামাডোলের মধ্যেই শিলিগুড়ি পৌরনিগমের বোর্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকার ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

ইস্তফার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

গৌতম দেবের এই আকস্মিক বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। শিলিগুড়ি শহরে দীর্ঘ চার বছর মেয়রের দায়িত্ব সামলানো সত্ত্বেও, নির্বাচনে শহরের সবকটি ওয়ার্ডেই তৃণমূলের পরাজয় ঘটে। এর ফলে দলের অন্দরেই তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি কলকাতায় গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরেই তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বলে দলীয় সূত্রে খবর। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শহরের নাগরিক পরিষেবায়। যদিও রঞ্জন সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের পরিষেবার স্বার্থেই তাঁরা বোর্ড টিকিয়ে রাখতে চান এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকারই। তবে এই ক্রমবর্ধমান দলীয় কোন্দল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে শিলিগুড়িতে শাসকদলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *