ইতিহাস সংশোধনের বার্তা দিয়ে মহাসাড়ম্বরে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস!

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠনের পর ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপন করল বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। রাজ্যজুড়ে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বিশেষ কর্মসূচি এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে। তবে এই উদযাপনের সমান্তরালে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এক নতুন তরজা ও বিতর্কের সূচনা হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন ও শ্যামাপ্রসাদ চর্চা
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকলে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামের কোনো রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না। একই সুর শোনা গেছে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, যা এবার সামনে আসবে। দেশভাগের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কারণেই পশ্চিমবঙ্গের একটি বৃহৎ অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল বলে সরকারি তরফে দাবি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শুভেচ্ছা জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে চলেছে।
দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে রাজ্যজুড়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশভাগের সময়কার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের এই পুনর্মূল্যায়ন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে সামনে আনার পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে। নতুন সরকার এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলার চিরাচরিত রাজনৈতিক বয়ানে নিজস্ব ভাবাদর্শের একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে চাইছে। তবে ইতিহাসের এই ব্যাখ্যা ও সরকারি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক এবং আদর্শগত সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।