তৃণমূল নেতার পুকুরঘাটে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি! ভোটের আগে বাসন্তীতে বারুদের গন্ধ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে ফের উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র ও কার্তুজ। এই ঘটনায় শওকত গায়েন এবং জাফর শেখ নামে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাসন্তী থানা ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফ যৌথ তল্লাশি চালিয়ে শওকত গায়েনের বাড়ির পুকুরঘাট থেকে ১৪টি দূরপাল্লার আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শাহজাহান ও রমজান যোগে মিলল সূত্র
পুলিশ ও এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অস্ত্র উদ্ধারের শিকড় লুকিয়ে রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি তল্লাশি অভিযানের মধ্যে। দিনকয়েক আগেই শেখ শাহজাহানের ডেরা থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার পর রমজান শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনআইএ-র হাতে ধৃত শওকত মোল্লা ও শেখ শাহজাহান—উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা ছিল এই রমজানের। এসটিএফ-এর হেফাজতে থাকা রমজানকে জেরা করেই বাসন্তীতে শওকত গায়েনের বাড়িতে এই লুক্কায়িত অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ মেলে। উল্লেখ্য, ধৃত শওকতের ছেলে রেজাউল গায়েন স্থানীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচিত তৃণমূল সদস্য এবং এলাকার দাপুটে নেতা রাজা গাজির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
ভোটের মুখে অশান্তির মেঘ ও রাজনৈতিক তরজা
নির্বাচন শিয়রে, আর তার আগেই বাসন্তীর মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বড়সড় রাজনৈতিক হিংসা ও অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এসটিএফের আশঙ্কা, এলাকায় আরও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে, তাই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের মদতেই দুষ্কৃতীরা গোটা বাসন্তীকে বোমা ও বারুদের স্তূপে পরিণত করেছে। তাদের দাবি, মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রাজা গাজি এখনও পলাতক এবং তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হলে এলাকায় মজুত আরও অস্ত্রের হদিস পাওয়া সম্ভব হবে।