বকখালির সৈকতে মিলল নিখোঁজ তরুণীর পুঁতে রাখা লাশ, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই কি এই নৃশংসতা!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বকখালির সমুদ্রসৈকত থেকে নিখোঁজ এক তরুণীর পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৬ মে প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হন আবিয়া বিবি নামের ওই তরুণী। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর তার প্রেমিক জিয়ারুল সর্দারকে গ্রেপ্তারের পর এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হলো। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হেনরি আইল্যান্ড লাগোয়া সৈকতের বালি খুঁড়ে তরুণীর গলিত দেহটি উদ্ধার করা হয়।
প্রেমের আড়ালে নির্মমতার ছক
তদন্তে জানা গেছে, গত ১৬ মে আবিয়া বিবিকে সঙ্গে নিয়ে বকখালিতে বেড়াতে যান জিয়ারুল সর্দার। ভ্রমণ শেষে জিয়ারুল একা বাড়ি ফিরে এলেও খোঁজ মিলছিল না তরুণীর। পরিবারের পক্ষ থেকে বকুলতলা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর গত বৃহস্পতিবার সকালে সন্দেহভাজন জিয়ারুলকে আটক করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে এবং আবিয়াকে খুন করে সমুদ্রসৈকতের বালির নিচে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করে সে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই এই সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র অশান্তি চলছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়। বকখালির মতো একটি জনবহুল ও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই ঘটনার পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধৃত যুবককে আরও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো মদদদাতা বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদিকে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।