সবুজ আবির মাখিয়ে জুতোর মালা, ত্রিপল চুরির অভিযোগে তৃণমূল কর্মীকে চরম শাস্তি!

পশ্চিম মেদিনীপুরের বোড়াই এলাকায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে এক তৃণমূল কর্মীকে ঘিরে ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালি গায়ে সবুজ আবির মাখিয়ে, হাতে জুতোর মালা পরিয়ে এবং মাথায় ত্রিপল চাপিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘোরান ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। হাঁটার সময় সামান্য দাঁড়ালেই তাঁর ওপর লাঠির ঘা এবং ডিম ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই গণরোষের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ত্রাণ দুর্নীতির জেরে জনরোষ
সরকারি ত্রাণ বেআইনিভাবে মজুত করার অভিযোগ ঘিরেই এই ক্ষোভের সূত্রপাত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল কর্মীর আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির বাসিন্দা হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বোড়াই এলাকায় একটি দোকান চালাতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ত্রিপল শাসকদলের মদতে ওই দোকানে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করে রাখা হয়েছিল। সকালে সন্দেহবশত ওই দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল উদ্ধার করেন সাধারণ মানুষ। গরিবের হকের ত্রাণ এইভাবে আত্মসাৎ করার প্রমাণ হাতেনাতে পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা এবং অভিযুক্তকে চরম শাস্তি দেয়।
পুলিশের পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে খবর দেওয়া হয় মোহনপুর থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সরকারি ত্রিপল কীভাবে ওই ব্যক্তির দোকানে পৌঁছল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাসকদলের কার্যালয় বা নেতাদের বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসছে। বোড়াই এলাকার এই ঘটনা সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। নিচুতলার কর্মীদের এই ধরনের দুর্নীতির ফলে গ্রামীণ স্তরে শাসকদলের ভাবমূর্তি গভীরভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসন বিরোধী ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।