ডুয়ার্সে হড়পা বানের শঙ্কা, আগামী ৩ দিন রাজ্যজুড়ে প্রবল বর্ষণের লাল সতর্কতা!

উত্তরবঙ্গে রাতভর প্রবল বর্ষণের পর আগামী তিন দিনের জন্য একাধিক জেলায় চরম সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দফতর। ডুয়ার্স থেকে শুরু করে কলকাতা, রাজ্যজুড়েই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিলেছে। একদিকে পাহাড়ি নদীগুলিতে হড়পা বানের শঙ্কা, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি—সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে ব্যাপক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে চলেছে বাংলা।
উত্তরবঙ্গে হড়পা বানের শঙ্কা ও লাল সতর্কতা
আগামী তিন দিন দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে টানা তিন দিনের জন্য থাকছে লাল সতর্কতা। আজ কোচবিহারেও লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ডুয়ার্স অঞ্চলে একদিনে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ি নদীগুলিতে হড়পা বানের চরম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গেও দুর্যোগ ও তাপমাত্রার পতন
শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, প্রবল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দক্ষিণবঙ্গেও। আজ হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমানে কমলা সতর্কতা জারি থাকছে। মূলত দুপুর ও রাতের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। রবিবার যোগ দিবসে কলকাতাতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড়-বৃষ্টি চলবে। মঙ্গলবার দুর্যোগ কিছুটা কমলেও বুধবার থেকে ফের বৃষ্টির দাপট বাড়বে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেয়েছে। আজ সকালে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৮.২ মিলিমিটার।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে একটি শক্তিশালী মৌসুমী অক্ষরেখা পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের উপর দিয়ে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখার প্রভাবেই রাজ্যে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে এবং ব্যাপক বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই লাগাতার বর্ষণের ফলে একদিকে যেমন গ্রীষ্মের অস্বস্তি কাটবে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গে ভূমিধস, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং দক্ষিণবঙ্গের নিচু এলাকাগুলিতে জলজটের মতো বড়সড় প্রভাব পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।