চার্টার্ড বিমান বিতর্কে এবার অভিষেককে তীব্র খোঁচা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের

ভোটের ধাক্কা ও দলে ভাঙনের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন তুমুল অস্বস্তি। এর মধ্যেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও জোরালো হলো। কুণাল ঘোষের পর এবার এই ইস্যুতে সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অভিষেককে তীব্র খোঁচা দিলেন ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর।
দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের এই রাজকীয় সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। তিনি লিখেছেন, যেখানে দলের সাধারণ সমর্থকরা মামলার খরচ জোগাতে জমি বন্ধক রাখছেন কিংবা ঘটি-বাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, সেখানে নেতা ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে চার্টার্ড বিমানে দিল্লি যাচ্ছেন। পোস্টে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বাপরে! কেউ কি বারণ করবেন?’ ছাব্বিশের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে পরাজিত এই নেতার এমন মন্তব্য দলের অন্দরের ফাটলকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
তৃণমূলের অন্দরেই বাড়ছে অসন্তোষ ও সমালোচনা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে। লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তাঁর এই দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে প্রথম সুর চড়িয়েছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দলের টাকায় এই ধরনের বিলাসবহুল সফর তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক আক্রমণ সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিল। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা সজল ঘোষও এই ঘটনাকে অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
বিতর্কের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের একের পর এক নেতার এভাবে প্রকাশ্যে মুখ খোলা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের কর্তৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা। একদিকে যখন কর্মীরা আর্থিক ও আইনি সংকটে জর্জরিত, তখন শীর্ষ নেতৃত্বের এমন বিপুল ব্যয়ের সফর নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এর ফলে দলের ভেতরে ক্ষোভ ও দূরত্ব আরও বাড়তে পারে, যা আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্যকে বড়সড় সংকটে ফেলতে পারে।
যদিও এই সমালোচনা প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, আইনি পরামর্শ মেনেই তিনি এই সফর করেছেন। একই সঙ্গে কুণাল ঘোষের মন্তব্যের জবাবে তিনি পাল্টা কোনো কটু মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে শীর্ষ নেতৃত্বের এই সাফাই দলের ভেতরের অসন্তোষ কতটা থামাতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।