ভারতের বৈবাহিক সম্পর্কে ডিজিটাল ভাঙন, পরকীয়া অ্যাপে গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লক্ষ পার

ভারতের বৈবাহিক সম্পর্কে ডিজিটাল ভাঙন, পরকীয়া অ্যাপে গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লক্ষ পার

ভারতে দীর্ঘকাল ধরে বিবাহকে ‘সাত জন্মের পবিত্র বন্ধন’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে সেই সনাতন ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মানুষের সম্পর্কের সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, আন্তর্জাতিক বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘গ্লিডেন’ (Gleeden)-এর ভারতীয় গ্রাহক সংখ্যা বা ইউজারের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৪০ লক্ষ অতিক্রম করেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, বিয়ে এবং বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে ভারতীয়দের সামাজিক চিন্তাভাবনার পরিধি ক্রমশ বদলে যাচ্ছে।

মহিলাদের অংশগ্রহণ এবং মেট্রো সিটির আধিপত্য

এই ডিজিটাল পরিবর্তনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো বিবাহিত নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। যদিও এই প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে পুরুষ গ্রাহকের সংখ্যা বেশি (প্রায় ৬৫ শতাংশ), তবে গত দুই বছরে নারী গ্রাহকদের সংখ্যায় রেকর্ড ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে মোট গ্রাহকের ৩৫ শতাংশই নারী। বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের মতো মেট্রোপলিটন শহরের নারীরা বৈবাহিক জীবনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি একঘেয়েমি কাটাতে এবং রোমাঞ্চের সন্ধানে এই ধরণের ডিজিটাল মাধ্যমে পা রাখছেন।

শহরের তালিকায় ১৮ শতাংশ ইউজার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে প্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরু। এর পরেই রয়েছে হায়দরাবাদ (১৭%), দিল্লি (১১%), মুম্বই (৯%) এবং পুনে (৭%)। তবে শুধু বড় মেট্রো শহরই নয়, লখনউ, চণ্ডীগড়, সুরাট, কোয়েম্বাটুর, পটনা এবং গুয়াহাটির মতো দ্বিতীয় স্তরের ছোট শহরগুলোতেও এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত কর্মব্যস্ততার মাঝে দুপুরের বিরতিতে (দুপুর ১২টা থেকে ৩টে) অথবা রাতে একাকীত্বের সময়ে (রাত ১০টা থেকে ১২টা) এই অ্যাপগুলো বেশি ব্যবহার করছেন।

মানসিক দূরত্বের কারণ ও সামাজিক প্রভাব

সম্পর্কের এই পটপরিবর্তনের পেছনে মূলত কাজ করছে আধুনিক কর্পোরেট জীবনের অতিব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্বের চাপ এবং দম্পতিদের মধ্যে পারস্পরিক মানসিক সংযোগের অভাব। জীবনযাত্রার এই একঘেয়েমি ও মানসিক শূন্যতা কাটাতে মানুষ ডিজিটাল জগতের দিকে ঝুঁকছেন। ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী বিবাহিত ভারতীয়দের ওপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতা প্রচলিত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে ‘সুইংগিং’-এর মতো অপ্রচলিত ও উন্মুক্ত ডেটিং পদ্ধতির দিকে পা বাড়াচ্ছেন।

সামাজিকভাবে বিবাহ-বহির্ভূত এই সম্পর্কের বিস্তার আগামী দিনে ঐতিহ্যবাহী যৌথ বা একক পারিবারিক কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে এটি যেমন মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মানসিক চাহিদাকে সামনে নিয়ে আসছে, অন্যদিকে তা প্রচলিত সামাজিক ও পারিবারিক বিশ্বাসের ভিতকেও এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *