ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে ফুঁসছেন মেলোনি, বাতিল ইতালির বিদেশমন্ত্রীর আমেরিকা সফর!

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয়-বিনয় ও আবদার করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। এই ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে।
ট্রাম্পের দাবি ও মেলোনির কড়া জবাব
সম্প্রতি ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এবং ছবি তোলার জন্য খুব আবদার করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালির রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ট্রাম্পের বক্তব্য খারিজ করে দিয়ে জানান, এই মন্তব্য সম্পূর্ণ বানানো ও কাল্পনিক। তিনি বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিমী বিশ্বের শত্রুদের প্রতি ট্রাম্প নমনীয় আচরণ করলেও বন্ধুদের ক্ষেত্রে তা দেখান না। একই সাথে তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।
সম্পর্কের অবক্ষয় ও কূটনৈতিক প্রভাব
এক সময় ইউরোপে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মেলোনি ২০২৫ সালে ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন। তবে চলতি বছরে ইরান যুদ্ধ, পোপ লিওর সমালোচনা এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। জি-৭ সম্মেলনে তাঁদের সুসম্পর্কের আভাস পাওয়া গেলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এই বিতর্কের জেরে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ইতালি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চরম অপমানজনক আখ্যা দিয়ে ইতালির বিদেশমন্ত্রী অ্যান্টনিও তাজানি তাঁর নির্ধারিত আমেরিকা সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। এই ঘটনা আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও রোমের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।