২২ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশনের কড়া নোটিসে কি এবার বন্ধ হবে সুরুচি সঙ্ঘের পুজো?

কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে অন্যতম হাইপ্রোফাইল এবং ঐতিহ্যবাহী নাম সুরুচি সঙ্ঘ। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের পুজো হিসেবেই এটি পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের জেরে এবার এই মেগা পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (এলআইসি)-এর পক্ষ থেকে সুরুচি সঙ্ঘকে জমি খালি করার আইনি নোটিস দেওয়ায় এই অনিশ্চয়তা চরম আকার ধারণ করেছে।
আইনি নোটিস ও জমি বিতর্কের কারণ
জানা গিয়েছে, মেসিকাণ্ডে স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হতেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল এলআইসি কর্তৃপক্ষ। থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর, সংস্থার আইনজীবীর মাধ্যমে সুরুচি সঙ্ঘকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ক্লাবের তিন দিকে সাঁটানো এই নোটিসে মোট চারটি প্লট, যা প্রায় ২২ কাঠা জমির সমান, তা অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলআইসি-র অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সরকারি জমি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে এবং প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হতো। আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে এই জমি খালি না করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিসে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নোটিস সাঁটানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনটির মধ্যে দুটি নোটিস ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বিগত সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে একে ‘দখলদারির রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতা ও জমি দখলের সংস্কৃতির অভিযোগ তুলে তিনি একে আইনের জয় বলে দাবি করেছেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুরুচি সঙ্ঘ যদি জমি খালি না করে, তবে আগামী দিনে বড় ধরনের আইনি সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কলকাতার অন্যতম প্রধান পুজো হিসেবে পরিচিত সুরুচি সঙ্ঘের আগামী শারদোৎসবের আয়োজন সম্পূর্ণ বন্ধ বা বড়সড় বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।