তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীর মেগা উপহার, রাজ্য পেল একাধিক নতুন প্রকল্প!

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন উপলক্ষে তারকেশ্বর থেকে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকেশ্বরে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মূলত কৃষি, গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং স্বাস্থ্যখাতে রাজ্যের জন্য একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের সূচনা করা হয়। এই মেগা উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলির বাস্তবায়নকে আরও ত্বরান্বিত করার বার্তা দেওয়া হলো।
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে জোর
কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির মানোন্নয়নে এদিন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্পের ২৩ তম কিস্তির অধীনে দেশের ৯.৪৪ কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৮৮০ কোটি টাকা পাঠানো হয় এই মঞ্চ থেকেই। পাশাপাশি ডিজিটাল কৃষি মিশন, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন হয়। গ্রামীণ যাতায়াত ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা-৩ এর অন্তর্গত ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪৯টি নতুন রাস্তা তৈরির প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব
কৃষির পাশাপাশি মৎস্য, পশুপালন এবং রেল পরিকাঠামোতেও এসেছে নতুন বিনিয়োগ। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিক মৎস্য বন্দর, বীরভূমের সাঁইথিয়ায় আধুনিক মৎস্য বাজার এবং নদিয়ার হরিঘাটায় ছাগল প্রতিপালনের বিশেষ ল্যাবরেটরি ও সিমেন ব্যাঙ্কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও হাওড়ায় রেলের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং হাউর ও রাধামোহনপুরের মধ্যে ওভারব্রিজের ভিত্তপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
রাজ্যবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই প্রকল্পগুলির সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। কৃষি, পশুপালন ও গ্রামীণ পরিকাঠামোয় এই বিপুল বিনিয়োগ মূলত প্রান্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত করবে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর তারকেশ্বর সফরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন্দে মাতরম ধ্বনির মধ্যে দিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা, জলভরা সন্দেশ, শিবলিঙ্গ ও ডোকরার দুর্গামূর্তি তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।