প্রথম বাজেটে কি মিলবে ১২ শতাংশ ডিএ, রাজ্যজুড়ে বাড়ছে কোটি টাকার প্রশ্নের পারদ!

সোমবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। এই প্রথম বাজেটের প্রাক্কালে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধির বিষয়টি। নবান্ন থেকে শুরু করে জেলার সরকারি দফতরগুলিতে এখন একটাই প্রশ্ন, ঠিক কত শতাংশ ডিএ বাড়তে চলেছে এই বাজেটে?
বকেয়া মেটানোর রূপরেখা ও সপ্তম বেতন কমিশন
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে একসঙ্গে বকেয়া ৪২ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়া কার্যত আসাম্ভব। তবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অনুমান, এই বাজেটে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হতে পারে এবং বাকি অংশ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিন দফায় মিটিয়ে দেওয়ার একটি রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করতে হলে তার আগেই এই ডিএ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়ার মধ্যে এখনও প্রায় ৩৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা পরিশোধের দায় রয়ে গেছে রাজ্যের ওপর। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া মেটাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে নবান্নে।
রাজস্ব বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ভরসা
রাজ্যের বর্তমান ঋণের বোঝা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে বিপুল বকেয়া মেটানোর জন্য রাতারাতি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ জিএসটি থেকে বার্ষিক আয় ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নতুন করে আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। এই ঘাটতি সামাল দিতে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অপচয় ও অনিয়ম রোধ করা এবং দীর্ঘদিনের অনাদায়ী কর আদায়ে জোর দেওয়া। একই সঙ্গে অযোগ্য বা ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা পুনর্বিবেচনার কাজ শুরু হয়েছে।
এই আর্থিক চাপ সামলাতে শুভেন্দু অধিকারীর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রথম বাজেটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির উপরেই বেশি গুরুত্ব দিতে চলেছে। ‘বাংলার বাড়ি’ বা ‘স্বাস্থ্যসাথী’-র মতো একাধিক রাজ্য প্রকল্পের পরিবর্তে সমমানের কেন্দ্রীয় প্রকল্প পুরোদমে চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট খাতে রাজ্যের আর্থিক বোঝা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী বাজেটে ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৮৪ কোটি টাকার ব্যয়বরাদ্দ ঘোষণা করা হলেও, নতুন সরকারের এই পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সেই অঙ্ক ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। একদিকে পরিকাঠামো উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ তৈরি, অন্যদিকে কর্মচারীদের ডিএ-র দাবি পূরণ— এই দুইয়ের ভারসাম্যে নতুন সরকার প্রথম বাজেটে কী দিশা দেখায়, এখন সেটাই দেখার।