শৃঙ্খলমুক্ত বাংলায় সুপারফাস্ট উন্নয়ন! তারকেশ্বর থেকে বিরোধীদের তীব্র তোপ প্রধানমন্ত্রীর

শৃঙ্খলমুক্ত বাংলায় সুপারফাস্ট উন্নয়ন! তারকেশ্বর থেকে বিরোধীদের তীব্র তোপ প্রধানমন্ত্রীর

‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে তারকেশ্বরে আয়োজিত এক মেগা সরকারি ইভেন্ট থেকে রাজ্যের রেল ও কৃষিক্ষেত্রে একাধিক নয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দুর্নীতি ও কাটমানির জমানা পেরিয়ে রাজ্যে এখন শৃঙ্খলমুক্ত সতেজ আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং একটি ভোটের মাধ্যমেই বাংলার হারানো গৌরব ফিরতে শুরু করেছে।

ইতিহাসের স্মরণ ও বিরোধীদের নিশানা
দেশভাগের যন্ত্রণাদায়ক ইতিহাস এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করে এদিন কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, দশকের পর দশক ধরে তোষণের রাজনীতি ও অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিয়ে বাংলাকে পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের মূল কারণ হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও একজোট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের জমানায় দুর্নীতিগ্রস্তরা জেলে বন্দি এবং সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে হারানো শিল্পপতিরা যেমন ফের আস্থা ফিরে পাচ্ছেন, তেমনই কাঁটাতারের মতো সীমান্ত সুরক্ষার কাজও বাধাহীনভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

কৃষি ও পরিকাঠামোয় গতির সঞ্চার
রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত ভিত মজবুত করতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পিএম ফসল বিমা যোজনা’ এবং ‘ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন’ চালু করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে মনে করা হচ্ছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসল নষ্ট হলেও বাংলার কৃষকদের চরম আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন আটকে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের সমাপ্তি, বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ চুক্তি, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধা এবং সরকারি চাকরিতে যুব সম্প্রদায়ের জন্য বয়সের ছাড়ের মতো বিষয়গুলি রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে, ইতিহাসকে স্মরণ এবং উন্নয়নের বাস্তব রূপরেখা তুলে ধরে রাজ্যবাসীর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য, তা তাঁর “বাংলা এবার ইতিহাস গড়বে” বার্তার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *