চোরের হাতে দল ছাড়ব না! ভাঙন-জল্পনার মাঝেই ইস্তফার হুঁশিয়ারি উদ্ধবের

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। দলের ৬ জন লোকসভা সাংসদের একনাথ শিন্ডে শিবিরে যোগদানের জল্পনার মাঝেই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। দলের ৬০তম প্রতিষ্ঠা দিবসের জনসভায় দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ওপর আস্থা না থাকলে তিনি সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত। তবে কোনওভাবেই দলের রাশ ‘চোরদের’ হাতে তুলে দেবেন না। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে জয়ী ওই দলবদলু সাংসদদের যারা ভোট দিয়েছিলেন, প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তাঁদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমাও চেয়েছেন বালাসাহেব-পুত্র।
বিজেপিকে নিশানা ও কংগ্রেসের প্রশংসা
দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এই তীব্র ভাঙনের জন্য মূলত বিজেপিকেই দায়ী করেছেন উদ্ধব। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে শিবসেনাকে ধ্বংস করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। দেশে একদলীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও তারা কখনও শিবসেনাকে শেষ করার চেষ্টা করেনি। এদিন দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দিনা পাতিল, নাগেশ পাতিল আশতিকার-সহ ৬ বিদ্রোহী সাংসদ গরহাজির ছিলেন, যা তাঁদের এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
আবেগঘন বার্তার নেপথ্যের কারণ ও প্রভাব
কংগ্রেসের প্রশংসার পাশাপাশি দলের কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার যাবতীয় জল্পনা এদিন কড়া ভাষায় উড়িয়ে দিয়েছেন উদ্ধব। মারাঠিদের অধিকার রক্ষায় তৈরি শিবসেনার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ধবের এই পদত্যাগের প্রস্তাব নিছকই আবেগপ্রবণতা নয়, বরং এটি একটি সুচতুর রাজনৈতিক কৌশল। এই বার্তার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের সহানুভূতি আদায় করে দলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তেমনি শিন্ডে-বিজেপি জোটের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। এই কৌশলের ফলে দলের বিদ্রোহী অংশ সাধারণ মারাঠি ভোটারদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা হারায়, মহারাষ্ট্রের আগামী রাজনীতিতে সেটাই বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।