পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে বেঁধে মধ্যযুগীয় বর্বরতা, ছত্তিসগড়ে ধৃত পাষণ্ড স্বামী

পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে বেঁধে মধ্যযুগীয় বর্বরতা, ছত্তিসগড়ে ধৃত পাষণ্ড স্বামী

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে স্ত্রীর ওপর নারকীয় ও অমানুষিক নির্যাতন চালানোর এক শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটেছে ছত্তিসগড়ের কোরিয়া জেলায়। স্ত্রীকে বেঁধে বেধড়ক মারধর, ব্লেড দিয়ে মাথা মুড়িয়ে দেওয়া এবং জোর করে মুখে মূত্র ঢেলে দেওয়ার মতো চরম অমানবিক আচরণ করা হয়েছে ওই মহিলার সাথে। এই পাশবিক অত্যাচারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী জিতেন্দ্র ঘাসিয়াকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন কোরিয়া জেলার পাণ্ডোপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। তিরিশোর্ধ্ব নির্যাতিতা ওই মহিলা ১৫ জুন থানায় গিয়ে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন। প্রথমদিকে লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে ওই মহিলা অত্যাচারের সম্পূর্ণ ভয়াবহতার কথা খুলে বলেননি। কিন্তু পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নৃশংস ঘটনার ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনার সত্যতা জানতে পারে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে গার্হস্থ্য হিংসা, অপরাধমূলক হুমকি ও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ক্ষতিকারক দ্রব্য সেবন করানোসহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে।

ঘটনার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ

নির্যাতিতা মহিলার বয়ান অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে জিতেন্দ্র ঘাসিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের চার সন্তানও রয়েছে। তবে পরকীয়ার সন্দেহে তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। প্রায় এক বছর আগে স্বামী তাঁকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করলে তিনি এক পরিচিতের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। গত ১৪ জুন আচমকাই জিতেন্দ্র তাঁর বর্তমান বাড়িতে চড়াও হয়ে হাত-পা বেঁধে লাথি-ঘুষি মারতে শুরু করে। এরপর কাঁচি ও ব্লেড দিয়ে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক মুখে মূত্র ঢেলে দেওয়া হয়। এমনকি তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রভাব

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই মহিলাকে ক্রমাগত চড় ও লাথি মারছে এবং তাঁর মাথা মুড়িয়ে মুখ ও শরীরে কালচে রঙের পদার্থ লেপে দিচ্ছে। মারধরের তীব্রতায় মহিলার পোশাকও ছিঁড়ে যায়। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক কলহ ও চরম মানসিক বিকৃতির ফলেই এই ধরণের নৃশংস অপরাধের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এবং এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাজে নারী সুরক্ষার বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *