শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি হানার পর এবার বিগত ১৫ বছরের সই জাল নিয়ে বিস্ফোরক সংশয় শিল্পমন্ত্রীর!

শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি হানার পর এবার বিগত ১৫ বছরের সই জাল নিয়ে বিস্ফোরক সংশয় শিল্পমন্ত্রীর!

বালিগঞ্জে প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে সিআইডি হানার পর বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলা এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। কেবল বিধায়কদের সই জালিয়াতিই নয়, বিগত দেড় দশকে সরকারের শীর্ষস্তরেও এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে খোদ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের মন্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বিস্ফোরক অভিযোগে সরব শিল্পমন্ত্রী

তদন্ত চলাকালীন এই সই-জাল কাণ্ড নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বিগত সরকারের আমলের টেন্ডার প্রক্রিয়া ও বড় বড় কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে আঙুল তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, গত ১৫ বছরে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা বড় আমলাদের সই জাল করে অন্য কোনও কারবার চালানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শোভনদেবের বাড়িতে গোয়েন্দারা ও মামলার প্রেক্ষাপট

এ দিন সকালে একজন ভিডিওগ্রাফার-সহ সিআইডি-র একটি বিশেষ দল বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছায় এবং প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি প্রবীণ এই বিধায়ক।

গোটা বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো ৭০ জন বিধায়কের সই সম্বলিত ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিঠিটি জমা পড়ার পরেই দেখা যায়, একাধিক বিধায়কের সইয়ে মারাত্মক অসঙ্গতি রয়েছে এবং কিছু নাম সাধারণ ‘ব্লক লেটারে’ লেখা। পরবর্তীতে দলেরই দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তের পরিধি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সই জালিয়াতি মামলার জল ইতিমধ্যেই অনেকদূর গড়িয়েছে। এর আগে ফিরহাদ হাকিম এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতাদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। এবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্তের প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। একদিকে যেমন শাসকদলের ভেতরের সমীকরণ ও দলত্যাগী বিধায়কদের অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রীর এই নতুন অভিযোগের পর বিগত সরকারের আমলের একাধিক বড় বড় প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ও সরকারি নথির সত্যতা নিয়েও আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের টানাপোড়েন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *