অপারেশন থিয়েটারে জুনিয়র ডাক্তারদের চরম হেনস্থা! ভিডিও ভাইরাল হতেই সাসপেন্ড ৬ সিনিয়র

ভারতের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার অন্দরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ ও বিষাক্ত সংস্কৃতির ছবি ফের জনসমক্ষে উঠে এল। গুজরাতের ভাবনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে (জিএমসি) অপারেশন থিয়েটারের ভেতরেই জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর অমানবিক র্যাগিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ওটির ভেতরে অমানবিক অত্যাচার
স্যার টি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ১৩ জন প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ওপর তাঁদেরই ৬ জন সিনিয়র চরম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালান। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জেডিএন-এর জাতীয় মুখপাত্র ডক্টর ধ্রুব চৌহান এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনেন। সেখানে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল জায়গায় জুনিয়রদের অত্যন্ত অপমানজনকভাবে ‘মুরগি’ বানিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও সারারাত দাঁড় করিয়ে রাখা এবং লোকেশন যাচাই করতে প্রতি ঘণ্টায় সেলফি পাঠানোর মতো অমানবিক নির্দেশও দেওয়া হতো।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনরোষের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেয় গুজরাত সরকার ও কলেজ প্রশাসন। কলেজের ডিনের নেতৃত্বে অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটির দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টার বৈঠকের পর অভিযুক্ত ৬ জন সিনিয়র ছাত্রকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাদের ৬ মাস থেকে ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার পাশাপাশি হোস্টেল থেকে অবিলম্বে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই শাস্তির মেয়াদ চলাকালীন তারা কোনো ক্লিনিক্যাল বা অ্যাকাডেমিক কাজে অংশ নিতে পারবেন না।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তথাকথিত ‘এমবিবিএস কালচার’-এর নামে জুনিয়রদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের বিকৃত মানসিকতাই এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ। এই অমানবিক প্রথার সুদূরপ্রসারী প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ফলেই অনেক চিকিৎসক পরবর্তী কর্মজীবনে রোগীদের প্রতি অনুভূতিহীন বা নির্মম হয়ে পড়েন বলে মনে করছেন অনেকে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় শিক্ষানবিশদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিকাঠামোগত সংস্কারের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।