রাস্তায় নিরাপদে হাঁটা এবার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

রাস্তায় নিরাপদে হাঁটা এবার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

ফুটপাত কেবল রাস্তার বর্ধিত অংশ নয়, এটি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি অপরিহার্য নাগরিক পরিকাঠামো। এবার ফুটপাত ব্যবহার করে নিরাপদে হাঁটার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো নাগরিক এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। কলকাতা-সহ দেশের একাধিক বড় শহরে যখন ফুটপাত দখল ও হকার উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই শীর্ষ আদালতের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দেশের আইন মহল।

একটি দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণটি করে। আদালত জানায়, ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১)(ডি) ধারা অনুযায়ী নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার রয়েছে এবং ২১ নম্বর ধারা প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করে। এই দুই ধারার সমন্বয়েই পথচারীদের নিরাপদে ফুটপাত ব্যবহারের অধিকারকে মৌলিক অধিকারের আওতায় আনা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, প্রশাসন কেবল রাস্তা তৈরি করেই নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। প্রতিটি শহর ও নগর এলাকায় উপযুক্ত ফুটপাত নির্মাণ এবং তা চলাচলের উপযোগী রাখা স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভার আইনি বাধ্যবাধকতা। নতুন রাস্তা তৈরির সময় ফুটপাত নির্মিত হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সংঘাত ও সমন্বয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে দেশের বহু মেট্রো শহরে ফুটপাতের সিংহভাগ হকারদের দখলে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হয়, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে প্রশাসনের ওপর ফুটপাত দখলমুক্ত করার আইনি চাপ যেমন বাড়ল, তেমনই সৃষ্টি হয়েছে নতুন জটিলতা। কারণ, শীর্ষ আদালত একই সঙ্গে সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার অধীনে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার অধিকারকেও স্বীকৃতি দিয়েছে।

পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন দিয়ে জীবিকার অধিকার রক্ষা করা এখন রাজ্য ও পুর প্রশাসনগুলির কাছে একটি বড় পরীক্ষা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় আগামী দিনে দেশের নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *