ঐতিহ্যের তারকেশ্বরে বর্ণিল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা মনে করালেন মোদী!

ঐতিহ্যের তারকেশ্বরে বর্ণিল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা মনে করালেন মোদী!

রাজকীয় মঞ্চসজ্জা আর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হুগলির তারকেশ্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহাসিক ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম সরকারিভাবে ২০ জুন দিনটিকে রাজ্য দিবস হিসেবে পালন করছে নবান্ন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শনিবার দুপুরে দু’দিনের সফরে রাজ্যে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারকেশ্বরের সভামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীকে ডোকরার তৈরি চমৎকার এক দুর্গামূর্তি, বাবা তারকনাথের ছবি এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা ও জলভরা সন্দেশ দিয়ে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আরএন রবিসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জমকালো আয়োজন ও ঐতিহ্যের কোলাজ

নতুন সরকারের প্রথম এই রাজ্য দিবস উদযাপনকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজনের কোনো খামতি ছিল না। গোটা অনুষ্ঠান চত্বরজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলার নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। কলকাতার চেনা হলুদ ট্যাক্সি, হাতে টানা রিকশা থেকে শুরু করে দক্ষিণেশ্বর মন্দির ও বেলুড় মঠের ছবির কোলাজে সাজানো হয়েছিল চারপাশ। মঞ্চের সৌন্দর্য বাড়াতে সুদূর থাইল্যান্ড থেকে বিশেষ ‘অ্যান্থোরিয়াম’ ফুল এবং তামিলনাড়ুর উটি থেকে জারবেরা ও লিলি আনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভাস্থলে মোতায়েন ছিল বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের দিনক্ষণ নিয়ে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক জারি ছিল। পূর্বতন সরকারের আমলে ‘পয়লা বৈশাখ’ দিনটিকে রাজ্য দিবস হিসেবে পালন করা হলেও, বর্তমান সরকার ২০ জুন দিনটিকেই অফিশিয়াল ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। মূলত ১৯৪৭ সালের এই ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয়েছিল। বাংলাকে পাকিস্তানের গ্রাস থেকে রক্ষা করে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার এই লড়াইয়ের প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্তকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই বর্তমান সরকার এই দিনটি উদযাপনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের বোধকে আরও সুদৃঢ় করবে।

দিল্লি থেকে রওনা হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ২০ জুনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে এই রাজ্য দেশের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য ও দূরদর্শী অবদানকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন, যার কারণে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *