ভিডিয়ো কল চালু রেখেই আত্মঘাতী নাবালিকা, কল্যাণীর মর্মান্তিক ঘটনায় ঘনীভূত রহস্য!

কল্যাণী পুরসভা এলাকায় এক নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার রাতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের চর এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে তাঁর বাড়ির সিঁড়িঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধার করার সময় নাবালিকার দেহের পাশেই পড়েছিল তাঁর মোবাইল ফোনটি, যাতে তখনও একটি ভিডিয়ো কল চালু ছিল। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সম্পর্কের টানাপড়েন ও চরম সিদ্ধান্ত
প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক পরিণতির নেপথ্যে রয়েছে প্রেমের সম্পর্কের টানাপড়েন। কল্যাণীর কাঁঠালতলা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে ওই নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত কয়েক দিন ধরে তাঁদের মধ্যে তীব্র অশান্তি চলছিল। অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে ওই যুবক নাবালিকাকে চরম গালিগালাজ ও অপমান করেন। এরপর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সে। পরিবারের ধারণা, সেই অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ওই নাবালিকা।
রহস্যভেদের চাবিকাঠি সেই ভিডিয়ো কল
ঘটনার সময় নাবালিকার মোবাইল ফোনে চলমান ভিডিয়ো কলটিই এখন তদন্তের মূল ভিত্তি। পরিবারের দাবি, আত্মহত্যার মুহূর্তটিতে ভিডিয়ো কলের অপর প্রান্তে সেই অভিযুক্ত যুবকই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই রহস্যময় ভিডিয়ো কলের সূত্র ধরে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সময় অপর প্রান্তে কে ছিলেন এবং কী কথা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পর্কের টানাপড়েন এবং তার জেরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার আশীষ মৌর্য জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে সেই অনুযায়ী দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।