বিজেপি কর্মীকে খুনের চেষ্টা ও স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি, ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার তৃণমূলের উপপ্রধান!

বিজেপি কর্মীকে খুনের চেষ্টা ও স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি, ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার তৃণমূলের উপপ্রধান!

ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলে এক বিজেপি কর্মীকে খুনের চেষ্টা এবং তাঁর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন শাসকদলের স্থানীয় দুই প্রভাবশালী নেতা। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে রগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পঞ্চানন দাস এবং শিমুলিয়া গ্রামের বুথ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার ধৃতদের ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোটের রাতের হামলা ও অভিযোগ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁকরাইলের শিমুলিয়া গ্রামের আক্রান্ত ওই বিজেপি কর্মী শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত ১৭ এপ্রিল রাতে পঞ্চানন দাসের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং বাধা দিতে গেলে তাঁর স্ত্রীও শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। এই ঘটনার পর প্রাণভয়ে ওই কর্মী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। সম্প্রতি রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি বাড়ি ফিরে পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

শাসকদলের এক প্রভাবশালী পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধি এবং বুথ সভাপতির এই আকস্মিক গ্রেফতারি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের কর্মীর ওপর এমন নৃশংস হামলার অভিযোগে খোদ উপপ্রধানের গ্রেফতারি শাসকদলের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর। অন্যদিকে, আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত পঞ্চানন দাস দাবি করেন যে তিনি এই গ্রেফতারির কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রামের তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যকার রাজনৈতিক সমীকরণ এবং উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *