‘হামলা হলে যোগ্য জবাব!’ শান্তি বৈঠকের মাঝেই ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

‘হামলা হলে যোগ্য জবাব!’ শান্তি বৈঠকের মাঝেই ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

জেনেভা: দীর্ঘ চার মাসের সংঘাত মেটাতে সুইৎজ়ারল্যান্ডে স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনায় বসেছে আমেরিকা ও ইরান। কিন্তু সেই আলোচনা শুরুর মাঝেই বেজে উঠল সংঘাতের নতুন সুর! আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বড়সড় হামলা’র হুমকির কড়া জবাব দিল তেহরান। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রবল বাগ্‌যুদ্ধে আপাতত ভেস্তে যাওয়ার মুখে মেগা শান্তি বৈঠক।

কেন নতুন করে উত্তেজনা? রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “লেবাননে গোলযোগ সৃষ্টি করা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ জোগানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে ইরানকে। তা না হলে গত সপ্তাহের চেয়েও আরও কঠোরভাবে ইরানের ওপর আঘাত হানবে আমেরিকা।” এর পাশাপাশি, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত না হলে হরমুজ প্রণালীতে টোল বসানোর হুমকিও দেন তিনি।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: ট্রাম্পের এই হুমকির পরেই আসরে নামেন ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি ট্রাম্পকে ‘শব্দ চয়নে সতর্ক’ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পালটা বলেন:

  • “আমেরিকার হুমকিতে আমরা বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিই না। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হামলার যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।”
  • “হুমকি দিয়ে কাজ হলে আজ তাদের এমন হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো না।”

লেবানন ইস্যু ও বৈঠকের ভবিষ্যৎ: শান্তি চুক্তির পথে অন্যতম বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবানন। তেহরানের স্পষ্ট দাবি, চুক্তির শর্ত মেনে ইজরায়েলকে লেবাননে হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। যদিও ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হামলা বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন, তবে লেবাননের হয়ে ‘ওকালতি’ করতে এলে ইরানকে ফল ভুগতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন।

স্থগিত বৈঠক, বয়কট যৌথ ছবি: সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানি প্রতিনিধিদল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আমেরিকান প্রতিনিধিদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ ছবি তুলতে অস্বীকার করেন তাঁরা। এমনকী, প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানি প্রতিনিধিরা কিছুক্ষণের জন্য বৈঠক ছেড়ে বেরিয়েও যান। আপাতত আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে খবর। তবে তা পুরোপুরি বাতিল হয়নি। সব মিলিয়ে, এই হুমকি-পাল্টা হুঁশিয়ারির আবহে দুই দেশের এই বহু প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *