দিঘার সমুদ্রে বারবার রক্তক্ষরণ, এবার প্রশ্নের মুখে ট্রেনারদের যোগ্যতা ও সরকারি নজরদারি

দিঘার সমুদ্রে বারবার রক্তক্ষরণ, এবার প্রশ্নের মুখে ট্রেনারদের যোগ্যতা ও সরকারি নজরদারি

জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দিঘার সমুদ্র সৈকতে বিনোদনের চেয়ে এখন যেন আতঙ্কই বড় হয়ে উঠছে। শনিবার সকালে দিঘা মোহানা থানা এলাকার সি-হক ঘোলাঘাটে স্পিড বোটের ধাক্কায় পূর্ব বর্ধমানের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা সৈকত নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি আবারও সামনে এনে দিয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এখানে ওয়াটার স্পোর্টস ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে কেন্দ্র করে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও, প্রশাসনের স্থায়ী হেলদোল না থাকায় সাধারণ পর্যটকদের নিরাপত্তা আজ বড়সড় প্রশ্নের মুখে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য দিঘার সমুদ্রে সমস্ত ধরনের ওয়াটার স্পোর্টস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নজিরবিহীন উদাসীনতা ও নথিপত্রের অভাব

দিঘার সমুদ্র সৈকতে স্পিড বোট, প্যারাসেলিং কিংবা স্পিড বাইকের মতো অ্যাডভেঞ্চার রাইডগুলি মূলত বেসরকারি সংস্থাগুলি পরিচালনা করে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের ব্যবসা পরিচালনার জন্য পর্যটন দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ (ডিএসডিএ) থেকে ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দিঘার সৈকতে সক্রিয় বহু বেসরকারি সংস্থার কাছেই কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তৃণমূল জমানায় দিঘার সৌন্দর্যায়ন ও পর্যটন ব্যবসার যেমন রমরমা বেড়েছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এই ধরনের অবৈধ জয় রাইডের সংখ্যা। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে চালকদের সঠিক যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ যাচাই না করেই কীভাবে এই সংস্থাগুলোকে ব্যবসা করার ছাড়পত্র দেওয়া হলো, তা নিয়ে এখন তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

নিয়ম লঙ্ঘন ও সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব

দিঘার সমুদ্রে দুর্ঘটনার ইতিহাস এই প্রথম নয়। ২০২২ সালে স্পিড বোট বিকল হয়ে পাঁচজন পর্যটক মাঝ সমুদ্রে আটকে পড়েছিলেন। ২০২৩ সালেও বোটের ধাক্কায় এক পর্যটক গুরুতর জখম হন। একের পর এক সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও রাইডারদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ খতিয়ে দেখার কোনো সদিচ্ছা দেখায়নি প্রশাসন। যথাযথ পরিকাঠামো এবং সুরক্ষাবিধি না মেনে এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস চালু রাখায় বারবার সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এই ধারাবাহিক অব্যবস্থার ফলে পর্যটকদের মধ্যে দিঘাকে কেন্দ্র করে তীব্র ভীতি তৈরি হতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও অর্থনীতিতে।

শনিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। ঘাতক স্পিড বোটটিকে ইতিমধ্যে সিজ করা হয়েছে এবং সৈকত জুড়ে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে সাময়িক এই তৎপরতা কাটিয়ে কীভাবে দিঘার সমুদ্রকে পর্যটকদের জন্য স্থায়ীভাবে নিরাপদ করে তোলা যায়, সেটাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *