মৃত্যুকে হারিয়ে নিট পরীক্ষায় কলকাতার সৃষ্টি, নেপথ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ!

মৃত্যুকে হারিয়ে নিট পরীক্ষায় কলকাতার সৃষ্টি, নেপথ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ!

গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙে চুরমার। ফুসফুসে মারাত্মক আঘাত নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় চলেছিল মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া। রক্তনালীর বড় অস্ত্রোপচারের পর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সাহায্যে ফিরে পাওয়া জীবন। এমন এক চরম শারীরিক ও মানসিক বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও দেশের সবচেয়ে বড় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নিলেন কলকাতার বাসিন্দা সৃষ্টি দুবে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর এই অদম্য জেদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী হাইস্কুলে নিশ্চিন্তে নিট (NEET-UG) পরীক্ষা দিলেন এই লড়াকু ছাত্রী।

অদম্য জেদ ও যুদ্ধকালীন তৎপরতা

গত ১৪ জুনের এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন সৃষ্টি। চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ঘোষণা করলেও, নিট পরীক্ষায় বসার বিষয়ে অনড় ছিলেন তিনি। মেয়ের এই আসাম্ভব জেদের কথা মাথায় রেখে পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা বা এনটিএ (NTA)-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিষয়টি খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নজরে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে বাঁচাতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এনটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসন কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সৃষ্টির জন্য বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে অগ্রসর হয়। এমনকি পরীক্ষার দিন সৃষ্টির বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমস্ত ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

পরীক্ষাকেন্দ্রে নজিরবিহীন চিকিৎসা সুরক্ষা

পরীক্ষার দিন ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী বালিকা বিদ্যালয়ে সৃষ্টির জন্য নিচের তলায় একটি আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। বুকের ড্রেন পাইপ এবং প্রয়োজনীয় যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষায় বসার বিশেষ অনুমতি পান তিনি। পরীক্ষা চলাকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে উপস্থিত ছিল আইএলএস (ILS) হাসপাতালের একটি অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্যারামেডিক দল। পরীক্ষাকেন্দ্রের ঠিক বাইরে লাইফ সাপোর্টযুক্ত একটি অ্যাম্বুল্যান্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সৃষ্টির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যাতে বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর যৌথভাবে এই নজিরবিহীন কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

বর্তমানে সারা দেশ জুড়ে যখন নিট পরীক্ষা নিয়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন কলকাতার এই ঘটনা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। প্রশাসনের এই সংবেদনশীল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ছাত্রীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *