বিজেপি কর্মীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন! অবশেষে পুলিশের জালে ‘রায়নার ত্রাস’ তৃণমূল নেতা

বর্ধমান: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন। কিন্তু গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হলো না। এক মহিলা বিজেপি কর্মীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তোলাবাজির মারাত্মক অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন পূর্ব বর্ধমানের ‘রায়নার ত্রাস’ তৃণমূল নেতা বামদেব মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে তার সহযোগী নিজামুদ্দিন শেখ ওরফে কাজলও।
রবিবার কোমরে দড়ি পরিয়ে অভিযুক্তদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তাঁদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই দাপুটে নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই রায়না থানার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নির্যাতিতা ও বিজেপি সমর্থকেরা। তবে পরে আবির খেলে ও মিষ্টি মুখ করিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা।
ব্লেড দিয়ে চিরে দেওয়া হয় বুক-পিঠ!
নির্যাতিতা ওই বিজেপি কর্মীর অভিযোগ রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। তিনি জানান, “গত ১০ মার্চ বামদেব ও তার দলবল সশস্ত্র অবস্থায় আমার ওপর চড়াও হয়। এক লক্ষ টাকা তোলা দিতে অস্বীকার করায় আমার শ্লীলতাহানি করা হয় এবং ব্লেড দিয়ে বুক ও পিঠ চিরে দেওয়া হয়। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ দু’বছর আগেও আমার ওপর একইরকম অত্যাচার চালিয়েছিল ওরা।” এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার রাতে জাকতা গ্রাম থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
কে এই বামদেব মণ্ডল?
- বাম আমলে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রায়নায় ঘাসফুল শিবিরের দাপুটে নেতায় পরিণত হন বামদেব।
- ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রায়নার তৎকালীন ওসি-কে আক্রমণের অভিযোগে জেলও খাটেন তিনি।
- ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দল তাঁকে রায়না ১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি করে।
- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর ক্ষমতা হারিয়ে কার্যত এলাকাছাড়া ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘আস্থাভাজন’ নেতা।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই গ্রেফতারি ঘিরে রায়নায় ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। রায়নার বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “তৃণমূলের আমলে গোটা রায়নায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল এই বামদেব। বিরোধীদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছে। আজ সে গ্রেফতার হওয়ায় রায়নার মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।”
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে খারিজ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা দেবু টুডু। তাঁর পাল্টা দাবি, “গোটা রাজ্য জুড়েই বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, রায়নাতেও ঠিক একই চক্রান্ত করা হলো।”